22.7 C
Dhaka
০৩/০৩/২০২৬, ০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

সৈয়দপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বিধবার দোকান দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

নীলফামারীর সৈয়দপুরে একজন স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও দুইজন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এক বিধবার দুইটি দোকান দখল ও ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ভাড়াটিয়া হয়েও দোকান নিজের দাবি করে মিথ্যে মামলা দিয়ে মার্কেট মালিক নব্বই বছর বয়সী বিধবাকে হয়রানি করাসহ শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন বিধবা বৃদ্ধা।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯ টায় শহরের মুন্সিপাড়ায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিতভাবে তিনি এই অভিযোগগুলো তুলে ধরেন।

তিনি অভিযোগ করেন, গত বুধবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে মার্কেট চত্বরে প্রকাশ্যে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে হেনস্তা ও আহত করা হয়েছে। নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ না করায় চুক্তির মেয়াদ শেষে দোকান ছেড়ে দিতে বলায় এই অন্যায়ের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মোছা. সাফতারা বেগম।

তিনি বলেন, সৈয়দপুর শহরের শেরেবাংলা সড়কের মুন্সিপাড়া এলাকায় রাস্তার সাথেই ‘মঈন ম্যানশন’ মার্কেটটি আমাদের। আমার স্বামী মঈন সিদ্দিকী ১৯৭৫ সালে রেলওয়ের কাছ থেকে বাণিজ্যিক ভূমি লিজ লাইসেন্স এবং ১৯৮৮ সালে পৌরসভার কাছ থেকে প্লট বরাদ্দ নিয়ে প্রথমে ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ ও পরে এই মার্কেটটি করেছেন। এই মার্কেটের দুইটি দোকান শহরের মুন্সিপাড়ার পৌর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ও ৫ নং ওয়ার্ডের সভাপতি মো. আশরাফ হোসেন ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে ব্যবসা করে আসছে। গত ২০০৯ সালে আমার স্বামী মারা যান। এতে ওয়ারিশ হিসেবে আমি দোকান ভাড়ার চুক্তি নবায়ন করি এবং শেষ বার গত ১ মে ২০২০ হতে ৩০ এপ্রিল ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৩ বছরের জন্য চুক্তি করে আশরাফ হোসেনকে দোকান দুইটি ভাড়া দেই।

এই চুক্তির মাত্র দুই মাস পর থেকে সে ভাড়া দেয়া বন্ধ করে। বার বার বলার পরও সে কর্ণপাত করেনি। উল্টো ভাড়া চাইলেই অশোভন আচরণ করে এবং দোকান দখল করে নেয়ার হুমকি দেয়। চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ থাকাকালে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া না যাওয়ায় অপেক্ষায় থাকি। মেয়াদ শেষে দোকান ছাড়ার নোটিশ দেই। কিন্তু সে নানা ওজর আপত্তি দেখিয়ে প্রায় ১১ মাস পার করে। আর ইতোমধ্যে ভূয়া তথ্য দিয়ে রেলওয়ের কাছ থেকে দুই দোকানের আয়তন ৩৮০ বর্গফুট জায়গা কৃষি জমি দেখিয়ে নিজ নামে লিজ করিয়ে নেয়।

তিনি আরও বলেন, এই লিজের বলে দোকানের মালিকানা দাবি করে উল্টো আমার নামেই আদালতে দুইটি মামলা করেছে। এভাবে আওয়ামী আমলে দলীয় দাপটে হয়রানি করাসহ পুরো মার্কেট দখলের হুমকি দিয়ে আসছে আশরাফ হোসেন ও তার ভাই ভেজাল হলুদ ব্যবসায়ী আখতার হোসেন ফেকু। রাজনৈতিক পট পরিবর্তন তথা ৫ আগস্টের পর এই ফেকু নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আবু নাসের মিঠুর প্রশ্রয়ে ও সেই দাপটে দখল ধরে রেখেছে। ওই দোকানঘর দখল বজায় রেখে বিএনপি নেতা আবু নাসের মিঠুর মাধ্যমে দোকান ছাড়ার জন্য ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আশরাফ। এই টাকা না দিলে কেউ দোকান উদ্ধার করে দিতে পারবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেয় দখলবাজরা।

এর ফলে আমি বাধ্য হয়ে অবৈধভাবে দোকান দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছি। এমতাবস্থায় গত বুধবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে মার্কেটে গেলে আশরাফ হোসেন ও আখতার হোসেন ফেকু আমাকে আটকে হেনস্তা করে। পরে আবু নাসের মিঠুও তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে উপস্থিত হয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় ঘিরে ফেলে অকথ্য গালিগালাজ ও ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। এক পর্যায়ে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। এতে আমি দুই হাতে রক্তাক্ত জখম হই।

এমন পরিস্থিতিতে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি বয়স্ক বিধবা মানুষ বাড়িতে একা থাকি। প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উল্লেখিত ৩ জন রাজনৈতিক দলের নেতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানানোর সাথে সাথে বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

একইভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতার সাথে মিলে বিএনপির নেতার এমন বেআইনী কর্মকান্ড খতিয়ে দেখতে সরকারের উচ্চ মহলসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। যাতে দখলবাজ চক্রের হাত থেকে রক্ষা এবং নিজের বৈধ সম্পত্তি উদ্ধার করে শেষ বয়সে হয়রানিমুক্ত নিরাপদ জীবন যাপন করতে পারেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সাফতারা বেগমের ছেলে রাশেদ সিদ্দিকী, নাতি কাওসেন সিদ্দিকী, মেয়ে মিলা সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী নিশাত আহমেদ, ঠিকাদার লিটনসহ এলাকার শতাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নীলফামারীর সৈয়দপুরে জাকের পার্টির জনসভা ও র্্যালী অনুষ্ঠিত

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন