চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় আওয়ামী লীগ নেতা ও নাগদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজাজ ইমতিয়াজ জোয়ার্দার বিপুলের হুমকি ও অশালীন আচরণের ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নারী উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পাপিয়া খাতুন বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
রোববার (১৯ অক্টোবর) সকালে সার সরবরাহ নিয়ে বিরোধের জেরে চেয়ারম্যান বিপুল ফোনে ওই নারী কর্মকর্তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও ‘দেখে নেওয়া’র হুমকি দেন। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে তার ওই বক্তব্যের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সেদিন নাগদাহ ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার আমিনুল ইসলামের গোডাউনে চেয়ারম্যান বিপুলের পাঠানো এক ব্যক্তি ১০ বস্তা সার নিতে গেলে বরাদ্দ সীমা অতিক্রম করায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পাপিয়া খাতুন তাকে অন্যত্র যোগাযোগের পরামর্শ দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চেয়ারম্যান ফোনে গালাগালি ও হুমকি দেন।
পাপিয়া খাতুন বলেন, “চেয়ারম্যান আমার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন। এখন আমি আতঙ্কে আছি। বিষয়টি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।”
অভিযুক্ত চেয়ারম্যান এজাজ ইমতিয়াজ জোয়ার্দার বিপুল সাংবাদিকদের বলেন, “ওই নারী কর্মকর্তার আচরণ ভালো ছিল না। রাগের মাথায় কিছু কথা বলে ফেলেছি। এখন খারাপ লাগছে, আমি দুঃখও প্রকাশ করেছি।”
আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, “চেয়ারম্যান বিপুলের হুমকিতে অফিসের কর্মচারীরা ভীত। এর আগেও তার এমন আচরণের কারণে কয়েকজন কর্মকর্তা এলাকা ছেড়েছেন। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মেহেদী ইসলাম বলেন, “অডিও ক্লিপটি শুনেছি এবং মৌখিকভাবে অভিযোগ পেয়েছি। কৃষি অফিস লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পড়ুন : চুয়াডাঙ্গায় বিষাক্ত স্পিরিটকাণ্ডে নতুন মোড় : কবর থেকে উত্তোলন চার মরদেহের


