বিজ্ঞাপন

জেলেনস্কিকে কঠোর সমালোচনা, ইউক্রেনে নির্বাচনের দাবি ট্রাম্পের

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধের মাঝেই ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, যুদ্ধকে অজুহাত করে কিয়েভ নির্বাচন এড়িয়ে যাচ্ছে এবং এতে দেশটির গণতন্ত্র প্রশ্নের মুখে পড়ছে। একইসঙ্গে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ইউরোপ ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, ইউক্রেনের এখন নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, দেশটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত পলিটিকোর এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন। মার্কিন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছিল ইউক্রেন। আর এরপর থেকে দেশটিতে যেসব নির্বাচন স্থগিত রয়েছে, সেগুলো এড়াতে ‘যুদ্ধকে অজুহাত’ হিসেবে ব্যবহার করছে কিয়েভ।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি এখন নির্বাচন আয়োজন করার খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়। তারা যুদ্ধকে ব্যবহার করছে নির্বাচন না করার জন্য। কিন্তু আমার মনে হয় ইউক্রেনের জনগণের সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার থাকা উচিত’। তিনি আরও বলেন, ‘ওরা গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু একটা পর্যায়ে গিয়ে সেটি আর গণতন্ত্র থাকে না।’

সংবাদমাধ্যম বলছে, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনে এখন জরুরি আইন কার্যকর রয়েছে। এটি না থাকলে ইউক্রেনে ২০২৪ সালের মার্চে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। ট্রাম্প তার এই সাক্ষাৎকারে তার রোববারের মন্তব্যও পুনর্ব্যক্ত করেন। সেখানে তিনি দাবি করেছিলেন, যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র যে পরিকল্পনা দিয়েছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সেটি পড়েননি।

এদিকে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের কয়েক দিনের আলোচনা গত শনিবার কোনও অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। এই আলোচনায় জেলেনস্কিও যুক্ত ছিলেন, যদিও ‘বাস্তব শান্তির’ জন্য আরও আলোচনার প্রতিশ্রুতি দেন ইউক্রেনীয় এই প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো তিনি (জেলেনস্কি) রাতে পরিকল্পনাটা পড়ে দেখেছেন। সেটা ভালো হবে। কারণ অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে’। মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, রাশিয়া আকারে অনেক বড় দেশ হওয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে তারাই ‘সুবিধাজনক অবস্থানে’ রয়েছে।

চলমান এই যুদ্ধে ইউক্রেন ইতোমধ্যেই হেরে গেছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ওরা অনেক আগেই ভূখণ্ড হারিয়েছে, যা আমার দায়িত্ব নেয়ার আগের ঘটনা’। তিনি আরও বলেন, গত দশ মাসেও ইউক্রেন একইভাবে বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মধ্যেই সোমবার লন্ডনে ইউরোপীয় মিত্ররা ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন জানায়। সেখানে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া দখলে চলে যাওয়া কোনও অঞ্চল ছেড়ে দেয়ার ‘অধিকার’ ইউক্রেনের নেই।

ট্রাম্পের মতে, জেলেনস্কি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ‘একজন আরেকজনকে সত্যিই ঘৃণা করেন’, আর এ কারণে তাদের জন্য সমঝোতায় পৌঁছানো ‘খুব কঠিন’। এমনকি যুদ্ধ থামাতে ইউরোপ যে ভূমিকা রাখছে সেটিরও সমালোচনা করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘অনেক দিক দিয়েই ইউরোপ ভালো কাজ করছে না। তারা কথা বলে, কাজ করে না। আর যুদ্ধ চলতেই থাকে। চার বছর ধরে চলছে এই যুদ্ধ, আমি (ক্ষমতায়) আসার অনেক আগে থেকেই।’

পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ আজ

দেখুন: ওয়াগনার গ্রুপ রাশিয়ার দিকে ধাবিত | 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন