বিজ্ঞাপন

আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে একদিনে সোয়া তিন কোটি টাকার মাছ রপ্তানি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে সোমবার রেকর্ড পরিমাণ মাছ ভারতে রপ্তানি হয়েছে। একদিনে ২৭টি ট্রাকে করে প্রায় এক লাখ পাঁচ হাজার ৮৪৬ কেজি মাছ ভারতে পাঠানো হয়, যার বাজারমূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় তিন কোটি ২২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন কারণে একদিনেই এত বেশি মাছ রপ্তানি হয়েছে। শনিবার ‘সেকেন্ড স্যাটারডে’, রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি এবং মঙ্গলবার বিজয় দিবস উপলক্ষে রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সোমবারই অধিক পরিমাণ মাছ ভারতে পাঠানো হয়।

শুধু ত্রিপুরা রাজ্য নয়, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে পরিচিত ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচল প্রদেশে বাংলাদেশের মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে নিয়মিত এসব রাজ্যে মাছ রপ্তানি হয়। মূলত ত্রিপুরায় রপ্তানি হলেও সেখানকার ব্যবসায়ীরা পরে অন্য ছয় রাজ্যে বাংলাদেশের মাছ সরবরাহ করে থাকেন। ফলে বাংলাদেশি মাছের আমদানি-রপ্তানির ওপর ওইসব অঞ্চলের মাছের বাজারমূল্যও অনেকটা নির্ভরশীল।

এ বিষয়ে আখাউড়া স্থলবন্দর মাছ রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ফারুক বলেন, “দিন দিন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশের মাছের চাহিদা বাড়ছে। ওপারের বাজার অনেকটাই আমাদের মাছের ওপর নির্ভরশীল। সোমবার তিন কোটি টাকার বেশি মাছ রপ্তানি হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে রেকর্ড।”

আখাউড়া স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেসার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “ত্রিপুরাসহ ভারতের সাতটি রাজ্যে বাংলাদেশি মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে।”

তিনি জানান, সোমবার চারটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতি কেজি মাছ আড়াই ডলার দরে ভারতে মাছ রপ্তানি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি টাকার বেশি মাছ রপ্তানি হচ্ছে। রপ্তানিকৃত মাছের মধ্যে রয়েছে রুই, কাতলা, মৃগেল, পাঙ্গাস, টেংরা, পাবদা ও মেনি। এর মধ্যে পাঙ্গাস মাছের রপ্তানি সবচেয়ে বেশি, যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা মাছের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মাছ এনে হিমায়িত করে ভারতে রপ্তানি করা হচ্ছে। ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল মূলত স্থল ও পাহাড়বেষ্টিত হওয়ায় সেখানে নদী ও জলাশয়ের অভাব রয়েছে। ফলে স্বাদে ভালো, সহজলভ্য ও তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় বাংলাদেশি মাছ সেখানে বিশাল বাজার তৈরি করেছে। এতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কও আরও জোরদার হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : আখাউড়ায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় যুবলীগ নেতা ইদন মিয়া গ্রেপ্তার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন