গণতন্ত্রের মানসকন্যা আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা আজ দুপুর ২ টায় মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি ছিলো শুধু বাংলাদেশ নয় মুসলিম বিশ্বের স্মরণকালের বৃহৎ জানাজা। খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিয়েছে প্রধান উপদেষ্টা সহ তিন বাহিনী প্রধান। সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে গার্ড অব অনার। এছাড়াও কয়েক দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণও উপস্থিত ছিলেন।
জানাজায় অংশ নেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর, দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, আমির খসরু মাহমুদ, নজরুল ইসলাম খানসহ দলের শীর্ষ নেতা ও দলের লাখ লাখ নেতাকর্মী। পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, ইসলামি আন্দোলনের নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনে নেতাকর্মীরা জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।
আজ দুপুর ২ টায় কোটি মানুষের অংশগ্রহণে স্বামীর মৃত্যুর ৪৪ বছর পর মানিক মিয়া এভিনিউতে খালেদা জিয়াকে নিজ হাতে দাফন করলেন বড় ছেলে তারেক রহমান। মায়ের কফিনের পাশে পবিত্র কোরআন তেলওয়াত করেছেন তারেক রহমান। দাফন শেষে তিনি মায়ের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন। আপোষহীন এই নেত্রীর বিদায়ের শোকে স্তব্ধ পুরো বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের প্রথম ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন গণতন্ত্রের মানসকন্যা আপোষহীন দেশনেত্রী তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বুধবার ৩১ ডিসেম্বর বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর গুলশানে দলীয় অফিসের শোক বইতে স্বাক্ষর করে শোক প্রকাশ করেছেন দেশ বিদেশের হাজার হাজার মানুষ। শোক জানাতে এসে খালেদা জিয়ার বাসভবনে গিয়ে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের স্পিকার ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।এছাড়াও তারেক রহমানের হাতে মোদির লেখা চিঠি তুলে দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, এ সময় শোকবার্তা তুলে দেন এস জয়শংকর। নেপাল-ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও দেখা করেন তারেক রহমানের সাথে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ গভীর শোক জানিয়েছেন। খালেদা জিয়ার জানাজাকে কেন্দ্র করে মানিক মিয়া এভিনিউর আশপাশের এলাকায় তিল ধারনের ঠাঁই ছিলো না কানায় কানায় পূর্ণ ছিলো মানিক মিয়া এভিনিউ। নারী শিক্ষার বৈশ্বিক প্রেরণা বেগম জিয়া সারা বাংলাদেশের মানুষকে কাঁদিয়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তার মৃত্যুতে থমকে গেছে পুরো বাংলাদেশ ।
বেগম জিয়া ছিলেন দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের অতন্ত্র প্রহরী। তিনি মমতাময়ী মায়ের মত নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন দেশ ও দেশের মানুষের জন্য। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে খালেদা জিয়ার ভুমিকা ইতিহাসে চীর অম্লান হয়ে থাকবে।বেগম জিয়া ছিলেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিক ছিলেন। গণতন্ত্রের মানসকন্যা আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গভীর শোক প্রকাশ করেছে দেশের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। এছাড়াও দেশ বরেণ্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ,ব্যবসায়ী নেত্রীবৃন্দসহ সারা বিশ্বের নেতারা খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোটি কোটি মানুষের হূদয়ের স্পন্দন এই মহীয়সী নারীর মৃত্যুতে শোকে কাতর বাংলাদের মানুষ। বেগম খালেদা জিয়া কেবল মাত্র ক্ষমতার রাজনীতির সীমানায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তিনি সময়কে অতিক্রম করে মানুষের অনুভূতি, আশা- নিরাশা ও আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ছিলেন। তার মৃত্যু তাই শুধুই ব্যাক্তিগত না -এটি একটি আদর্শিক নেতৃত্বের নীরব প্রস্থান,একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সমাপ্তি।
তিনি ১৯৮০ এর দশকে সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের তার নেতৃত্ব দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে সংসদীয় গণতন্ত্র পুন-প্রতিষ্ঠিত হয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গুলো ফিরে পায় নতুন প্রাণ। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের রাজনৈতিক পালাবদলেও তিনি প্রমাণ করেছেন — ক্ষমতা নয়, গণতন্ত্রই তার মূল দর্শন। ২০০১থেকেন২০০৬ সাল পর্যন্ত তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠনের উদ্যোগে তার অবদান ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে।

নীতিগত প্রশ্নে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন স্পষ্ট, দৃঢ় ও আপোষহীন। রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে তিনি কখনো দ্বিধান্বিত হননি। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অদম্য। দীর্ঘ কারাবরণ,রাজনৈতিক নিপীড়ন, গুরুতর অসুস্থতা এমনকি সন্তান হারা – কোন কিছুই তাকে আদর্শ থেকে সরাতে পারেনি।বন্দিত্বের মধ্যেও তিনি নীরব প্রতিবাদের প্রতিক হয়ে উঠেছিলেন। এখানেই তিনি সাধারণ মানুষের কাছে অনুকরণীয় হয়ে উঠেন।
১৯৭৫ সালের পরবর্তী অস্থির সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তার উত্তরাধিকারী বহন করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। স্বামীকে হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি রাজনীতির ময়দানে এগিয়ে এসেছিলেন একটি বিভক্ত ও গণতন্ত্রবঞ্চিত জাতির কন্ঠ হয়ে। ১৯৮০-এর দশকে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার নেতৃত্ব দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
আজ তার প্রয়ানে যে কান্না তা কোন আনুষ্ঠানিক শোক নয়। এটি এক মহান নেত্রীর জন্য মানুষের অন্তর্গত বেদনা। গ্রাম থেকে শহর আজ প্রত্যেকে নিভৃত ঘর সবখানে তার নাম উচ্চারিত হচ্ছে অশ্রুসিক্ত কন্ঠে। বেগম জিয়াকে ঘিরে বিতর্ক ছিল, সমালোচনা ছিল এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বাস্তবতা।কিন্তু ইতিহাস কখনো ব্যক্তিগত মতামত দিয়ে লেখা হয় না। ইতিহাস লেখা হয় সময়, অবদান ও প্রভাব দিয়ে। সেই বিচারে তিনি নিঃসন্দেহে শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের ইতিহাসেও অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হবেন। নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তার অবদান যুগান্তকারী। দক্ষিণ এশিয়ার রনশীল সমাজে দাঁড়িয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন নারী নেতৃত্ব কোন ব্যতিক্রম নয় বরং সক্ষমতার স্বাভাবিক ও শক্তিশালী প্রকাশ।তারপর পথ ধরেই রাজনীতিতে অসংখ্য নারী সাহস আত্মবিশ্বাস ও স্বপ্ন খুঁজে পেয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। দেশ হারাল মমতাময়ী মা, জাতি হারাল একজন অভিবাবক। অনেকে বলছেন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ফ্যাসিস্ট হাসিনার দায় রয়েছে।
মাদার অফ ডেমোক্রেসি খ্যাত বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গর্বিত মাতা বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকল চেষ্টা ব্যার্থ করে চলে গেলেন পরপারে। গতকাল ভোর ৬ টায় তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে বেগম খালেদা জিয়ার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। বুধবার ৩১ ডিসেম্বর দুপুর ২টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়া জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।
এরি সাথে বাংলাদেশ থেকে এক আপোষহীন নক্ষত্র বিদায় নিয়ে গেলো। জীবনের শেষ মুহূর্তে খালেদা জিয়ার পাশে ছিলেন,তারই বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পুত্র বধু ডা.জু্বাইদা রহমান,নাতনি জাইমা রহমান,আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি, ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার,বড়বোন সেলেনা ইসলাম, মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীরসহ মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক মহীয়সী নারী, তিনি ছিলেন সাহসী, আপসহীন ও প্রভাবশালী নেতৃত্বের প্রতীক। একজন প্রভাবশালী ও আপসহীন রাজনৈতিক নেত্রী বেগম জিয়াকে হারিয়ে শোকাহত পুরো জাতি।
দেশের এই সংকটময় ক্লান্তিলগ্নে বেগম খালেদা জিয়ার মতো একজন রাষ্ট্রনায়ককে হারানো জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তার মতো নেতৃত্ব ও দৃঢ়তার মানুষ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। তার শূন্যতা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। দেশের গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া যে অবদান রেখে গেছেন, তা জাতি চিরদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।গণতন্ত্রের মানসকন্যা বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মানুষকে কাঁদিয়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে।
পড়ুন: জনসমুদ্রে সম্পন্ন হলো খালেদা জিয়ার জানাজা
আর/


