দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অন্যতম স্থপতি এবং উদার নেতৃত্বের প্রতীক- এমন মন্তব্য করেছেন বক্তারা। মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তাঁরা এসব কথা বলেন।
শনিবার খুলনা প্রেসক্লাবের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত শোকসভায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, পেশাজীবী ও সুধীজনরা অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে উত্তরণের যে ঐতিহাসিক সূচনা বেগম খালেদা জিয়া করেছিলেন, জাতি চিরকাল সেই অবদান স্মরণ করবে। এই শোকসভা কেবল শোক প্রকাশের নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক অবদান ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
বক্তারা আরও বলেন, ক্ষমতায় থাকলে অনেক সময় অহংকার ও কর্তৃত্ববাদী আচরণ নেতাদের মধ্যে দেখা যায়। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এর কোনো বহিঃপ্রকাশ ছিল না। দেশ পরিচালনা ও দল পরিচালনায় তিনি ছিলেন সহজ-সরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত এবং সকলকে নিয়ে চলার মতো উদার মানসিকতার অধিকারী।
শোকসভায় খুলনার উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও জননিরাপত্তা ইস্যুতে সরাসরি সময় দিয়েছেন। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বরাদ্দ প্রদানে তাঁর ভূমিকা খুলনাবাসী আজও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে।
শোক সভায় সভাপতিত্ব করেন এমইউজে খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হিমালয়। সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও শেষে দোয়া পরিচালনা করেন সহ-সভাপতি মো. নূরুজ্জামান।
সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা ও সহ-সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম নূরের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা, বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ।
শোকসভা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, তাঁর আদর্শ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের জন্য পথনির্দেশক হয়ে থাকবে।


