চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু (৪৮) সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিনগত রাতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত শামসুজ্জামান ডাবলুর ঔষধের ফার্মেসি থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৬ এডি রেজিমেন্ট (টিটিসি আর্মি ক্যাম্প) এর একদল সদস্য।
অভিযোগ উঠেছে, অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের কথা বলে তাঁকে জীবননগর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন তাঁর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয় বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
নির্যাতনের একপর্যায়ে ডাবলু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ১০টার পর সেনাসদস্যরা তাঁকে পুনরায় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত শামসুজ্জামান ডাবলু দুই সন্তানের জনক।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর দুই শিশুপুত্রের সাথে ডাবলুর একটি ছবি ছড়িয়ে পড়লে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীরা। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং একে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সেনাক্যাম্প বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
তবে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পড়ুন- গণভোটে নির্ধারিত হবে ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের রূপরেখা: লুৎফে সিদ্দিকী


