খুলনায় আয়োজিত নাগরিক শোক সভায় বক্তারা বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বাতিঘর। আজ তাঁর শারীরিক উপস্থিতি না থাকলেও তাঁর দেখানো পথ কখনো হারিয়ে যাবে না। আপসহীন নেতৃত্ব, সাহস, ত্যাগ ও জনগণের অধিকারের প্রশ্নে ইতিহাসে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোক সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
শোক সভায় বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল বলেন, স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু, কারাবন্দিত্ব, মামলা-হামলা ও নির্যাতন—কোনো কিছুই বেগম খালেদা জিয়াকে মাথা নত করাতে পারেনি। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন, ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী হলেও জনগণের ভোটাধিকার ও মানুষের অধিকার চিরস্থায়ী। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হয়েও বেগম খালেদা জিয়া কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করেননি। ক্ষমতায় কিংবা বিরোধীদলে—সব সময় তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্রনায়ক। দীর্ঘ অসুস্থতা ও বন্দিত্বের মধ্যেও তাঁর আপসহীন অবস্থান তাঁকে অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে।
সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি, খুলনা-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি ছিল মানুষের ভোটাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের রাজনীতি। তাঁর আদর্শ ধারণ করাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
বক্তারা বলেন, একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হওয়ার যে বিরল ইতিহাস, বেগম খালেদা জিয়া তা নিজের জীবন দিয়ে রচনা করে গেছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হারানোর শোক তাঁকে দুর্বল করেনি; বরং সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি নিপীড়িত মানুষের আশ্রয়স্থল ও গণতন্ত্রকামী মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।
তাঁরা আরও বলেন, দেশনেত্রী আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর ত্যাগ, সাহস ও সংগ্রাম জাতির বিবেককে চিরকাল জাগ্রত রাখবে। গণতন্ত্র, ন্যায় ও মানুষের অধিকারের প্রশ্নে তাঁর দেখানো পথেই ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করা হয় শোক সভা থেকে।
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোক সভায় শোক প্রস্তাব পাঠ করেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। মহানগর ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা আবু নাঈমের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভা শুরু হয়।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মনিরুজ্জামান মনি, খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, ড্যাব খুলনার সভাপতি ডা. রফিকুল হক বাবলু, খুলনা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি রাশিদুল ইসলামসহ মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
শোক সভা শেষে মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।


