33 C
Dhaka
০৪/০৩/২০২৬, ১৫:০২ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

ঢাকায় ভাড়াটিয়াদের জন্য সুখবর: ২ বছরের আগে বাড়ানো যাবে না বাড়িভাড়া

দুই বছরের আগে বাড়ি ভাড়া না বাড়ানোসহ ১৬ নির্দেশনা দিয়ে বাড়িভাড়া সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশান-২ এর নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

বিজ্ঞাপন

ঢাকার বাড়িভাড়া সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলন মোহাম্মদ এজাজ বলেন, যারা জানুয়ারিতে ভাড়া বাড়ানোর কথা ভাবছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি— ভাড়া বাড়ানোর সময় হলো জুন-জুলাই। এই বাড়ি ভাড়ার ওপর ভিত্তি করে সিটি কর্পোরেশনকে ট্যাক্স দিতে হয়। তাই যে হারে ট্যাক্স দেবেন সেই হারে বাসা ভাড়া বাড়াবেন।

তিনি আরও বলেন, ভাড়াটিয়ার অধিকার সুরক্ষা এবং ভাড়া সংক্রান্ত হয়রানি কমাতে নতুন এই নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। পরে ডিএনসিসি প্রশাসক ভাড়াটিয়ার অধিকার নিশ্চিতে একাধিক নির্দেশিকা তুলে ধরেন। সেখানে উল্লেখ থাকা নির্দেশনাগুলো হল—

১) বাড়ির মালিক অবশ্যই তার বাড়িটি বসবাসের উপযোগী করে রাখবেন।

২) বাড়িতে ইউটিলিটি সার্ভিসের (গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি) নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ, দৈনিক গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ব্যত্যয় বা সমস্যা হলে ভাড়াটিয়া বাড়িওয়ালাকে জানাবে এবং বাড়িওয়ালা দ্রুত সমাধান করবেন।

৩) বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া (বাড়িওয়ালার পূর্ব অনুমোদন সাপেক্ষে) বাড়ির ছাদ, বারান্দা ও সামনের উন্মুক্ত স্থানে সবুজায়ন (ফুল/ফল/সবজি) করবেন।

৪) অগ্নিকাণ্ড বা ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন ঝুঁকি বিবেচনায় নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়িওয়ালা প্রত্যেক ভাড়াটিয়াকে ছাদ ও মূল গেটের চাবি শতভাগ দেবেন।

৫) ভাড়াটিয়া প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাড়িওয়ালাকে ভাড়া দেবেন। বাড়িওয়ালা প্রতি মাসে ভাড়ার নির্দিষ্ট রশিদ দেবেন এবং ভাড়াটিয়া ভাড়া দেওয়ার সময় স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত রশিদ সংগ্রহ করবেন।

৬) ভাড়াটিয়ার যেকোনো সময়ে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকবে। নিরাপত্তা বা শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বাড়িওয়ালা কোনো পদক্ষেপ নিলে ভাড়াটিয়াকে জানাবেন এবং বাস্তবায়নের আগে সম্মতি নেবেন। দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় যুক্তিসংগত সমাধান করতে হবে।

৭) মানসম্মত ভাড়া কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে আগামী দুই বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ভাড়া বাড়ানোর সময় হবে জুন–জুলাই।

৮) দুই বছরের আগে কোনো অবস্থায় ভাড়া বাড়ানো যাবে না। এরপর মানসম্মত বা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে ভাড়ার পরিবর্তন করা যাবে।

৯) নির্দিষ্ট সময়ে ভাড়া দিতে ব্যর্থ হলে বাড়িওয়ালা আগে মৌখিক সতর্ক করবেন ও তাগাদা দেবেন। তাতেও ভাড়া না দিলে সময়সীমা বেঁধে দুই মাসের মধ্যে বাড়ি ছাড়ার লিখিত সতর্কতামূলক নোটিশ দেবেন এবং পূর্ব স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল করে উচ্ছেদ করতে পারবেন।

১০) আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে ভাড়া চুক্তি বাতিল করতে হলে দুই মাসের নোটিশে উভয়পক্ষ চুক্তি বাতিল করতে পারবেন।

১১) মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ ও বার্ষিক ভাড়া বৃদ্ধির পরিমাণ-সংশ্লিষ্ট এলাকার বাড়িভাড়ার বাজারমূল্যের ১৫ শতাংশের বেশি হবে না।

১২) বাড়িওয়ালার সঙ্গে লিখিত চুক্তিতে-কোনো শর্তে ভাড়া, করণীয় কী, চুক্তিপত্রে ভাড়া বাড়ানো, অগ্রিম জমা, কখন বাড়ি ছাড়বেন— এসব স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

১৩) বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় ১-৩ মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেওয়া যাবে না।

১৪) সিটি করপোরেশন এলাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটিয়াদের সমিতি গঠন করতে হবে; স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ে ভাড়া নির্ধারণে উভয়পক্ষের প্রতিনিধিরা সহায়তা করবেন।

১৫) যেকোনো সমস্যা ওয়ার্ড বা জোনভিত্তিক বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া সমিতির আলোচনায় সমাধান করতে হবে। সমাধান না হলে পরবর্তী সময়ে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জানাতে হবে।

১৬) নির্দেশিকাটি ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের মেনে চলতে সচেতন করা এবং এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ বা জটিলতা সৃষ্টি হলে সিটি করপোরেশনের জোনভিত্তিক মতবিনিময় ও আলোচনা সভা করার কথা বলা হয়েছে।

নির্দেশিকা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরবাসীর জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ভাড়া ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন