মৌলভীবাজারের হাওর অঞ্চলের যেখানে ধানের ঘ্রাণ, আর বাড়িতে বাড়িতে নবান্ন উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেখানেই এখন কেবল অনিশ্চয়তার কালো মেঘ। প্রকৃতি যেন নিমিষেই তাঁদের সব হিসাবনিকাশ উলটপালট করে দিল। চোখের সামনে তলিয়ে গেল তাঁদের হাড়ভাঙা শ্রম আর ঋণের টাকায় ফলানো স্বপ্নের ফসল। টানা তিন দিনের অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাতের ঢলে ডুবলো মৌলভীবাজারের ৮৯৭হেক্টর জমির বোরো ধান।
মৌলভীবাজারে টানা ভারী বৃষ্টিতে জেলার হাওর অঞ্চলের পাশাপাশি নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে আগাম বন্যার পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এতে হাওর অঞ্চলের বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে, বৃষ্টির পানিতে এখন জলাবদ্ধতায় ডুবে আছে হাওরের অনেকাংশ। মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় চলতি বছর ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় আবাদ হয়েছে ২৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর এবং অন্যান্য এলাকায় ৩৫ হাজার ৪৫ হেক্টর। এবার ফলন ভালো হলেও বৈরি আবহাওয়া, ঘূর্ণিঝড় আর অতিরিক্ত শিলা বৃষ্টির ছোবলে পরে এ জেলার বোরো ধান। মোট আবাদকৃত জমির মধ্যে এ পর্যন্ত কর্তন হয়েছে ৩০ হাজার ৫৮ হেক্টর জমির ধান, যার মধ্যে রয়েছে হাওর এলাকার ২২ হাজার ৪০৯ হেক্টর বোরো ধান।
মৌলভীবাজারের হাওর অঞ্চলের কৃষকরা ধান কাটার মৌসুমে হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে ফসল ঘরে তুলতে না পেরে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন, চরম হতাশায় কৃষকরা বলছেন, ধান কাটার সময় হাওরের সব ধান ডুবে গেছে, ঋণ করে চাষ করেছি, তা কীভাবে শোধ করবো বুঝতে পারছি না। কৃষি বিভাগের তথ্যের চেয়েও ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি বলছেন হাওর অঞ্চলের কৃষকরা।
মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ জালাল উদ্দিন বলেন, হাওরের ধান কাটা প্রায় শেষের দিকে ছিল, ৮২ শতাংশ ধান ইতিমধ্যে কাটা হয়ে গেছে। জেলায় বোরো ধান কর্তন কার্যক্রম চলমান আছে, আমরা আগেই বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস কৃষকদের দিয়েছি, ইতিমধ্যে হাওরের কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ৮৯৭হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
মৌলভীবাজার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বলছে, গেল ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া গত ২৫ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ২৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত এ অঞ্চলে রেকর্ড করা হয়।
পড়ুন : মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনায় বন্যা, আরও ৩ জেলায় বন্যার আশঙ্কা


