২৭/০১/২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
18 C
Dhaka
২৭/০১/২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

ইরানে হামলার শঙ্কায় বিশ্বজুড়ে ফ্লাইট বাতিল

বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে শীর্ষস্থানীয় একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় কেএলএম, লুফথানসা এবং এয়ার ফ্রান্সের মতো বড় সংস্থাগুলো এই অঞ্চলে তাদের পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্তের ফলে ইসরায়েল, দুবাই এবং রিয়াদের মতো গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলোর বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।

বর্তমান উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণ দর্শিয়ে এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা দুবাইগামী সব পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখছে। একই পথে হেঁটেছে ডাচ এয়ারলাইনস কেএলএম; তারা ইরান, ইরাকসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে হয় এমন সব রুটের ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করেছে।

মূলত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রয়োগের ক্রমবর্ধমান আশঙ্কাই এভিয়েশন খাতে এই অচলাবস্থা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানি বিক্ষোভকারীদের ওপর খামেনি প্রশাসনের সহিংস দমনের প্রতিক্রিয়ায় তেহরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে ওয়াশিংটন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে।

এর আগে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, একটি শক্তিশালী মার্কিন ‘আর্মাডা’ বা রণতরীর বহর ইরানের অভিমুখে যাত্রা করেছে।

এর আগে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হলেও, প্রেসিডেন্টের এই নতুন বার্তা উত্তেজনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের মতে, তেহরান বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করলেও ওয়াশিংটনের সামরিক পরিকল্পনায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি।

তেহরানকে সতর্ক করে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় আমাদের অনেকগুলো জাহাজ ওই দিকে যাচ্ছে। ইরানের দিকে আমাদের একটি বিশাল বাহিনী অগ্রসর হচ্ছে; তবে আমরা আশা করছি হয়তো এটি শেষ পর্যন্ত ব্যবহারের প্রয়োজন পড়বে না।

উপসাগরের দিকে ধেয়ে আসা এই শক্তিশালী মার্কিন নৌবহরে রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন নামের বিশালাকার বিমানবাহী রণতরী এবং একাধিক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খুব শিগগিরই এই রণতরীগুলো আরব সাগর কিংবা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থান নেবে।

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে এয়ার ফ্রান্স ও কেএলএম তেল আবিবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান শহরগুলোতে সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। অন্যদিকে, লুফথানসা ইসরায়েলে শুধু দিনের বেলা বিমান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে দুবাইয়ে সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া। ফ্লাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সবসময় সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

এদিকে, ডাচ এয়ারলাইনস কেএলএম তেল আবিব, দুবাই, দাম্মাম ও রিয়াদের ফ্লাইট স্থগিত করেছে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ইরাক, ইরান, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর আকাশসীমা তারা ব্যবহার করবে না।

লুফথানসা গ্রুপ তাদের ফ্লাইটগুলো শুধু দিনের বেলা চালাচ্ছে এবং ইরানের আকাশপথ এড়িয়ে চলছে। এছাড়া ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ও এয়ার কানাডাও তেল আবিবে তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ভারী অস্ত্র নিয়ে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, সর্বাত্মক যুদ্ধ চালাবে ইরান

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন