১০/০২/২০২৬, ১৩:৩৬ অপরাহ্ণ
26 C
Dhaka
১০/০২/২০২৬, ১৩:৩৬ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মাফিয়ার শিক্ষার পথে আলোর হাত চট্টগ্রামের ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞার

নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার খটেশ্বর গ্রামের রিকশাচালক আমজাদ ফকির ও গৃহকর্মী ছামেনা বেগম দম্পত্তির কন্যা মাফিয়া খাতুন। জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হলেও তার স্বপ্ন দেখার চোখ কখনো অন্ধ হয়নি।

বিজ্ঞাপন


চরম প্রতিকূলতার মাঝেও মাফিয়া খাতুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি মাস্টার্সে ভর্তির অপেক্ষায়। কিন্তু অর্থাভাবে সেই স্বপ্ন আজ থমকে যাওয়ার মুখে।


মাফিয়ার বাবা আমজাদ ফকির রিকশা চালিয়ে আর মা ছামেনা বেগম বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানোর চেষ্টা করতেন। ২০২০ সালে আমজাদের মৃত্যুর পর পরিবারটির জীবনসংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে ওঠে। একা ছামেনার পক্ষে চার সন্তানের ভরণপোষণই হয়ে পড়ে প্রায় অসম্ভব। সেখানে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন ছিল কল্পনাতীত।


মাফিয়ার সংগ্রাম শুধু তার একার নয়। তার আরেক ভাই মোহাম্মদ আশিকও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। আশিক বর্তমানে সিরাজগঞ্জের একটি কলেজে এইচএসসি পর্যায়ে পড়াশোনা করছে বলে জানিয়েছে পরিবার। সীমাহীন দারিদ্র্যের মাঝেও দুই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সন্তানের শিক্ষার স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে রেখেছেন মা ছামেনা বেগম। তবে একার আয়ে সেই স্বপ্ন টিকিয়ে রাখা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।


তবু থেমে যাননি মাফিয়া। মানুষের কাছে ধার-দেনা করে কোনোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি। কিন্তু মাস্টার্সে ভর্তির ফি ও আনুষঙ্গিক শিক্ষা ব্যয় জোগাড় করা তার পক্ষে আর সম্ভব হয়ে উঠছিল না। কেবল অর্থাভাবে একজন মেধাবী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।


এমন পরিস্থিতিতে মাফিয়া আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) হাজির হন সারাদেশে ‘মানবিক ডিসি’ হিসেবে পরিচিত জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার কার্যালয়ে। সেখানে নিজের জীবনের করুণ বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন তিনি।


মাফিয়ার কাহিনি শুনে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন,“একজন মেধাবী শিক্ষার্থী, তাও আবার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন—টাকার অভাবে মাস্টার্স শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে না, এটা জেলা প্রশাসক হিসেবে মেনে নেওয়া কষ্টকর।”
নির্বাচনী কাজে চরম ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি মাফিয়াকে কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান। সরকারি নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও তার পাশে দাঁড়ান, যেন সে বুঝতে পারে—রাষ্ট্র অসহায় মানুষের পাশেই থাকে।


মাফিয়া খাতুন জানান, তিনি বরিশালের এ আর এস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগে। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামসুন্নাহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।


জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পর এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মাফিয়া। তিনি বলেন,“এত ব্যস্ততার মাঝেও ডিসি স্যার আমাকে সময় দিয়েছেন। উনি মানবিক না হলে নিশ্চয়ই আমার মতো মানুষের পাশে দাঁড়াতেন না।”

পড়ুন:রমজান উপলক্ষে জামালপুরে দোস্ত এইডের ৫০০ ফ্যামিলি ফুড প্যাকেট বিতরণ

দেখুন:‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালালেই ৫ বছরের কারাদণ্ড 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন