ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৫ সংসদীয় আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণ জটিল আকার ধারণ করেছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ভোটভিত্তি প্রায় কাছাকাছি থাকলেও গড় ব্যবধানে বিএনপি দ্বিতীয় এবং জামায়াত তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে বিশ্লেষকদের ধারণা, জামায়াতের জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের ভোট কোন দিকে যাবে, তার ওপর।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী খুলনা-৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২ হাজার ৭৯৮ জন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ হিন্দু ভোটার, যা নির্বাচনী হিসাব-নিকাশে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগার লবি। তার বিপরীতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাঠে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। এছাড়া জাতীয় পার্টির শারমিন আরা পারভীন এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির চিত্তরঞ্জন গোলদারও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের নির্বাচন মূলত দ্বিমুখী লড়াইয়ে রূপ নিতে পারে। ভোটারদের মতে, যে প্রার্থী আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকের একটি বড় অংশ নিজেদের পক্ষে নিতে সক্ষম হবেন, জয় অনেকটাই তার দিকেই ঝুঁকবে।
ডুমুরিয়ার শোভনা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির শেখ মোসলেম উদ্দিন দাবি করেন, জামায়াতের পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট হয়ে আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ জামায়াতের হিন্দু শাখার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এতে দাঁড়িপাল্লার বিজয়ের ব্যাপারে তারা আশাবাদী।
অন্যদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু সাঈদ সরদার বলেন, ভোট বর্জন বা নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো দলীয় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। স্থানীয় পর্যায়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ ও জামায়াত—দুই পক্ষ থেকেই চাপ রয়েছে। এ বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
এ অঞ্চলের ভোটারদের কাছে প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। রংপুর গ্রামের সমাজকর্মী কাজল বিশ্বাস ও গৃহবধূ প্রমীলা রানী বিশ্বাস বলেন, বিল ডাকাতিয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত স্লুইসগেটগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ায় বছরের অধিকাংশ সময় জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি এলেও বাস্তবে সমস্যার সমাধান হয়নি। এবার তারা আশ্বাস নয়, বাস্তব সমাধান চান।
বিএনপি প্রার্থী আলী আসগার লবি বলেন, জলাবদ্ধতা এই এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। নির্বাচিত হলে নদী ও খাল খননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়াই তার অগ্রাধিকার হবে।
দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এর আগের মেয়াদে সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। এবার নির্বাচিত হলে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও ইনসাফভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন বলে জানান তিনি।
পড়ুন : নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে জনজোয়ার ঠেকাতে ষড়যন্ত্র চলছে: ডা. তাহের


