কুষ্টিয়ার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন হচ্ছে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসন।
বিগত পরপর তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বশেষ ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত (দ্বাদশ) জাতীয় সংসদ নির্বাচন ধরে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দলটির হেভিওয়েট নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ।
এক সময় বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল কুষ্টিয়া সদর আসন। ২০০৮ সালের আগ পর্যন্ত কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনসহ অন্য তিনটি আসনও ছিল বিএনপির দখলে। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দুর্গে আঘাত হেনে আওয়ামী লীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন খন্দকার রশীদুজ্জামান দুদু। তাঁর মৃত্যুর পর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে এখানকার সংসদ সদস্য ছিলেন মাহবুবউল আলম হানিফ। এবারের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসন থেকে ৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। অন্যদিকে এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ এবং বক্তা মুফতি আমির হামজা। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ আবদুল্লাহ্ আখন্দ, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) হাতি প্রতীকে মোছাঃ রুম্পা খাতুন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মই প্রতীকে মীর নাজমুল ইসলাম এবং গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন মোহাঃ শরিফুল ইসলাম।
ভোটের ডামাডোল শুরু হওয়ার সাথে সাথে সারাদেশের মধ্যে যে আসনগুলি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তার মধ্যে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসন অন্যতম। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে এ আসনে আমির হামজার নাম ঘোষণা করার পর থেকেই কুষ্টিয়াসহ সারা দেশের মানুষের মধ্যেই কম-বেশি এখানকার নির্বাচনী ফলাফল শেষ পর্যন্ত কী হতে যাচ্ছে এ নিয়ে মানুষের যথেষ্ট কৌতুহল এবং আগ্রহ রয়েছে।
বিশেষ করে ওয়াজ মাহফিলসহ ইসলামিক বিভিন্ন আলোচনায় বক্তব্যের কারণে এমনকি ভোটের ময়দানেও বিতর্কিত নানা মন্তব্যের কারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় বার বার ভাইরাল হওয়ার পাশাপাশি নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়ে চলেছেন আমির হামজা।
সরেজমিনে এলাকা ঘুরে এবং ভোটারদের সাথে কথা বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারের সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আমির হামজার সাথে দ্বিমুখি লড়াই হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই বিএনপি এবং জামায়াতসহ অন্যান্য দলের প্রাার্থী এবং তাদের কমী-সমর্থকরা কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে বেশ জোরে সরেই প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। দুই দলের প্রার্থী এবং তাদের কর্মী সমর্থকরা সন্ত্রাস-চাঁদাবাজী-দখলবাজী বন্ধসহ কুষ্টিয়া জেলার সার্বিক উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এই দুই দল ছাড়াও ভোটের মাঠে অন্যান্য দলের প্রার্থী-সমর্থকরাও কম-বেশি প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে সাধারণ ভোটাররা বলছেন আলোচনায় জামায়াতের প্রার্থী মুফতি আমির হামজা এগিয়ে থাকলেও ভোটের হিসেবে কিছুটা হলেও এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। গত দুই দিন সরেজমিনে নির্বাচনী এলাকা ঘুরে ভোটারসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে এ রকম তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে সংসদ নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে এখানে নির্বাচনের উত্তাপ যেন ততই বাড়ছে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানান, দলীয় কোন্দল নিরসন হওয়ায় এবং মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের সমর্থন পাওয়ায় এবং নেতা-কর্মীদের নিয়ে ভোটের ময়দানে সামিল হওয়ায় অনেকটায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার।
অন্যদিকে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের একটি অংশ জাকির সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভোটের মাঠে সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে।
এছাড়াও জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মত পূর্ব অভিজ্ঞতাও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে। আওয়ামীলীগের সময় তিনি নির্বাচনে জয়লাভ করে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চেয়ারম্যান হয়েছিলেন।
অন্যদিকে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ এবং বক্তা মাওলানা আমির হামজা বয়সেও তরুন এবং এই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। বিভিন্ন সময় ওয়াজ মাহফিলে বেফাঁস মন্তব্যের কারণে।


