বিজ্ঞাপন

বছরে কোটি মানুষের মৃত্যুর কারণ অ্যান্টিবায়োটিক

চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন বা পরামর্শ ছাড়াই ভোক্তারা সরাসরি ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়েটিক কিনে নিচ্ছে, অথবা ফার্মেসিতে গিয়ে সমস্যার কথা বললেই দিয়ে দেওয়া হচ্ছে অ্যান্টিবাঢোটিক। এছাড়া চিকিৎসকরাও কারণে অকারণে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক দিচ্ছেন। অপ্রয়োজনে এই ওষুধ সেবনে তৈরি হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ্যতা।

বিজ্ঞাপন

এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে প্রায় ৯০ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে এটি। অর্থনৈতিকভাবে এই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২১০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২০৫০ সালে এই দুই অঞ্চলের জিডিপির সাত শতাংশ। এ ছাড়া, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ্যতা কাটিয়ে উঠতে চিকিৎসার প্রয়োজনে আনুমানিক দুই কোটি ৪০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারে।

এ সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করেছেন একদল গবেষক। সম্প্রতি আইসিডিডিআর,বি (আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ), স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস আমহার্স্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১২টি দৈনিকের ২৭৫টি প্রতিবেদন, সম্পাদকীয় ও মতামত বিশ্লেষণ করেন।

আজ বুধবার আইসিডিডিআর,বি এই তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ্যতা সম্পর্কিত ৩২ দশমিক দুই শতাংশ প্রতিবেদন করা হয়েছে ভোক্তাদের দ্বারা অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বিষয়ে। এ ছাড়া, ২৯ শতাংশ সংবাদ ছিল চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি নিয়ে এবং ২৬ দশমিক এক শতাংশ প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের অতিরিক্ত ওষুধ দেওয়ার ঘটনা দেখা যায়।

তবে, অ্যান্টিবায়োটিকের প্রসার এবং বিক্রিতে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর ভূমিকা নিয়ে খুব বেশি প্রতিবেদন দেখা যায়নি।

আইসিডিডিআর,বির হেলথ সিস্টেমস অ্যান্ড পপুলেশন স্টাডিজ বিভাগের রিসার্চ ইনভেস্টিগেটর এবং এই গবেষণার প্রধান গবেষক ডা. তাহমিদুল হক বলেন, ‘মানুষের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ্যতা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা সমর্থন করতে গণমাধ্যমে সঠিক, বিস্তারিত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ সংবাদ প্রয়োজন। এর ফলে মানুষ যেমন সচেতন হবে, পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদেরও জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা যাবে।’

বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, মূত্রনালীর সংক্রমণ, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ইনফেকশন এবং সেপসিসসহ বিভিন্ন সংক্রমণের জন্য দায়ী ই. কোলাই-এর মতো সাধারণ অণুজীবের মধ্যে প্রতিরোধ্যতার হার উদ্বেগজনকভাবে বেশি দেখা গেছে। অ্যামপিসিলিনের রেজিস্ট্যান্স ৯৪ দশমিক ছয় শতাংশ, অ্যামোক্সিক্লাভ ৬৭ দশমিক এক শতাংশ, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ৬৫ দশমিক দুই শতাংশ এবং কো-ট্রাইমক্সাজোল ৭২ শতাংশ।

  • শিশুদের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের অনুপযুক্ত ব্যবহার: অনেক সংক্রমণ ভাইরাসের কারণে হয় এবং সেগুলির ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন না হলেও অ্যান্টিবায়োটিকগুলি শিশুদের জন্য সবচেয়ে সাধারণ ভাবে নির্ধারিত ওষুধের তালিকায় পড়ে। অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পরামর্শ এবং তার অনুপযুক্ত ব্যবহার অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার জন্ম দিতে পারে। একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, বহিরাগত রোগীদের নিরিখে শিশুদের জন্য নির্দেশিত ৪১ শতাংশ পর্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিক অপ্রয়োজনীয় অথবা অনুপযুক্ত।
  • নতুন অ্যান্টিবায়োটিক বিকাশে বাধা: নতুন অ্যান্টিবায়োটিকের বিকাশের গতি গত কয়েক দশক ধরে হ্রাস পেয়েছে এবং আগামী দিনে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের সম্ভাব্য সংখ্যাও কম। এর ফলে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার নতুন স্ট্রেনগুলির সঙ্গে মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়্ছে।
  • দুর্বল অ্যান্টিবায়োটিক স্টুয়ার্ডশিপ: অ্যান্টিবায়োটিক স্টুয়ার্ডশিপ বলতে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা সংরক্ষণের জন্য দায়বদ্ধ ব্যবহার বোঝায়। সুতরাং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের এই জীবনরক্ষাকারী ওষুধের অব্যাহত কার্যকারিতা সুনিশ্চিত করার জন্য তাদের ক্লিনিক্যাল অনুশীলনে অ্যান্টিবায়োটিক স্টুয়ার্ডশিপকে অগ্রাধিকার দেওয়া অপরিহার্য।
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন