ঢাকার ধামরাই উপজেলার ১৬ নম্বর নান্নার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে জীর্ণ ও ছেঁড়া জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘিরে জাতীয় পতাকার প্রতি অবহেলা ও অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, পরিষদ ভবনের সম্মুখভাগে উত্তোলিত জাতীয় পতাকাটি বিভিন্ন স্থানে ছেঁড়া ও রং বিবর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পতাকার এমন অবমাননাকর পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান থাকলেও তা অপসারণ বা পরিবর্তনে কার্যকর কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, এটি শুধু অবহেলা নয়, জাতীয় মর্যাদার প্রতীককে অসম্মান করার শামিল।
নান্নার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহীদুল্লাহ বলেন, ভাষার মাসে আমাদের প্রিয় জাতীয় পতাকাকে এমন অবস্থায় দেখে গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছি। যে পতাকার মর্যাদা রক্ষায় লাখো শহীদ আত্মত্যাগ করেছেন, সেই পতাকাকে যথাযথ সম্মান না দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। জাতীয় পতাকা আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আত্মত্যাগের প্রতীক।এর প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা রাষ্ট্রীয় ও নৈতিক দায়িত্ব।
বাংলাদেশ জাতীয় পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, কোনো অবস্থাতেই ছেঁড়া, জীর্ণ বা বিবর্ণ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা যাবে না। পতাকার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো ব্যবহার আইনত পরিহারযোগ্য। বিধিমালা অনুযায়ী, অনুপযুক্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত পতাকা অবিলম্বে অপসারণ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ বা বিনষ্ট করতে হবে এবং তার স্থলে মানসম্মত নতুন পতাকা উত্তোলন করতে হবে।
এ বিষয়ে ১৬ নম্বর নান্নার ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ধামরাই খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা শেখ মোঃ মুসার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি তার নজরে আসার পর তাৎক্ষণিকভাবে পতাকা পরিবর্তনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ছেঁড়া পতাকা কেনো উত্তোলন করা হলো এবং যে করেছে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা হেঁসে দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, জাতীয় পতাকার মতো রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রতীক রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর নির্দেশনা প্রয়োজন।


