বরগুনায় রাজনৈতিক সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদারের লক্ষ্যে ‘সৌহার্দ্য সংলাপ (কর্মশালা ও ইফতার) ২০২৬’ স্থানীয় একটি কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বহুদলীয় অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সংলাপের উদ্যোগ নেয় মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম, বরগুনা। অনুষ্ঠানটি সহযোগিতা করে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল এবং যুক্তরাজ্যের ফরেন কমনওয়েলথ এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম বরগুনা জেলা কমিটির সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক চিত্ত রঞ্জনশীল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সহিংসতা কখনোই সমাধান নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমেই একটি টেকসই গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, ‘জেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী-উভয় দলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারলেই উন্নয়ন ও শান্তি নিশ্চিত হবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন হাসান শাহীন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মোঃ মহিবুল্লাহ হারুন, জেলা নায়েবে আমির মোঃ আফজালুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুশ শাকুর, সিপিবির জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড আলতাফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান কিসলু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ আবু ইউসুফ এবং বরগুনা প্রেসক্লাব-এর সভাপতি মোঃ হাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের উপপরিচালক দীপু হাফিজুর রহমান শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করতে আন্তঃদলীয় সংলাপ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চায় সম্পৃক্ত করতে এ ধরনের উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে হবে।’ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম বরগুনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মোঃ সালেহ।
সংলাপে তিনটি মূল বিষয়ের ওপর আলোচনা হয়-ক্ষমতাসীন দলের ভূমিকা, বিরোধী দলের দায়িত্ব এবং সামগ্রিকভাবে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার উপায়। আলোচনায় ক্ষমতাসীন দলের ক্ষেত্রে সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি চর্চা, নিয়মিত আন্তঃদলীয় বৈঠক এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অন্যদিকে বিরোধী দলের ক্ষেত্রে গঠনমূলক ও তথ্যভিত্তিক সমালোচনা, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন এবং সংলাপমুখী মনোভাব গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা, তরুণদের ইতিবাচক সম্পৃক্ততা এবং ধর্মীয়-সামাজিক অনুষ্ঠানে সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সামাজিক সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকাশে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের সৌহার্দ্য সংলাপ ভবিষ্যতে জেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
পড়ুন : বরগুনায় খাল খনন: ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন হাজারো কৃষক


