মাদারীপুরে দীর্ঘদিন ধরে মৃতপ্রায় হয়ে পড়া খালগুলো পুনঃখননের মাধ্যমে সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাদারীপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল কীর্তনীয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন,জেলার বিভিন্ন খালের তালিকা প্রস্তুত করে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হচ্ছে। খালগুলো পুরোপুরি খনন করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা গেলে বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।
জানা যায়, মাদারীপুরের ভুরঘাটা-বয়াতীবাড়ী খাল দিয়ে একসময় বড় বড় ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল করত। এসব নৌকায় কৃষিপণ্য পরিবহন করা হতো জেলার বিভিন্ন স্থানে। কিন্তু কালের বিবর্তনে খালটি এখন প্রায় পানিশূন্য। পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আশপাশের কৃষিজমিতেও সেচের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা।
শুধু ভুরঘাটা-বয়াতীবাড়ী খাল নয়, জেলার আরও অসংখ্য খাল একইভাবে মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। এসব খাল কৃষকদের জন্য এখন ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের কথা বিবেচনায় নিয়ে সম্প্রতি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে মরা খালগুলো পরিদর্শনে যান মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। তিনি খাল পুনঃখননের মাধ্যমে দ্রুত সচল করার আশ্বাস দেন। এতে প্রান্তিক চাষিদের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষকরা জানান, খালগুলোতে পানি ফিরলে সেচের সংকট দূর হবে এবং বছরে তিনটি ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে।
এদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, মরণদশায় থাকা খালগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে প্রকল্প অনুমোদন সাপেক্ষে খননকাজ শুরু হবে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খালগুলো পুনঃখনন করা গেলে শুধু সেচ ব্যবস্থাই উন্নত হবে না, বরং জলাবদ্ধতাও কমে আসবে। এতে কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন, সঠিকভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে। নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।


