নিয়ম অনুযায়ী যেখানে অবৈধ যানবাহনকে আটক করার কথা ঠিক সেখানেই সাভারে ঘটেগেছে তার উল্টো চিত্র। অটোরিকশা আটক ও চাঁদাবাজির অভিযোগে খোদ হাইওয়ে পুলিশের টহল টিমকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন অটোরিকশা ও থ্রী হুইলার চালকরা।
শনিবার(২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাভারের নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের গণকবাড়ি এলাকায় এমন চিত্রেরই দেখা মিলেছে। পরে সেনাবাহিনীর একটি টিম এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা যায়, দুপুরে সাভার হাইওয়ে পুলিশের একটি টহল দল গণকবাড়ি এলাকায় অটোরিকশা আটক করতে শুরু করলে চালকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকশ চালক একত্রিত হয়ে পুলিশের গাড়িটি চারপাশ থেকে ঘিরে স্লোগান দিতে থাকেন এবং পুলিশের গাড়িকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
বিক্ষোভকারী অটোরিকশা চালকদের দাবি, মহাসড়কে রিকশা নামলেই পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে তাদের আটক করা হয় এবং সরকারি জরিমানার কথা বলে কোনো প্রকার রসিদ ছাড়াই প্রতিটি রিকশা থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা করে আদায় করা হয়।
শামিম নামের এক অটোরিকশা চালক বলেন, আমরা গরিব মানুষ। সারাদিন রিকশা চালিয়ে যা পাই, তার বড় অংশই নিয়ে যায় এই সোর্সরা। টাকা দিতে না চাইলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। এমনকি রিকশা দিনের পর দিন আটকে রাখা হয়।
সাইদুর নামের অন্য এক চালক অভিযোগ করেন, পুলিশের নাম ভাঙিয়ে এই চাঁদাবাজি চললেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয় না, যার ফলে আজ তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। মাঝে মধ্যে পকেটে যা থাকে নিয়ে যায়। আমাদের সবার পরিবার আছে। লোন আছে। এভাবে চললে আমরা কিভাবে চলবো।
বিক্ষোভের খবর পেয়ে সাভার হাইওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারাও চালকদের তোপের মুখে পড়েন। পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় নবীনগর চন্দ্র মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চালকদের সাথে কথা বলে তাদের শান্ত করেন এবং সেনাবাহিনীর আশ্বাসে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহজাহান বলেন, আমরা এখানে এসেছি সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কোন গাড়ি আটক করতে না কিন্তু তারা হঠাৎই আমাদের ঘিরে ধরে, আমরা চালকদের কিছু অভিযোগ শুনেছি।
পড়ুন : সরকারি জমি দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ আ.লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে


