28.5 C
Dhaka
০৪/০৩/২০২৬, ১৭:৫৫ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় নিহত সেনাদের পরিচয় প্রকাশ করল পেন্টাগন

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের মধ্যে চারজনের পরিচয় প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, এখন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের ঘটনায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চারজন ছিলেন আইওয়া অঙ্গরাজ্যের একটি ইউনিটের সদস্য। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন সতর্ক করে বলেছে, সংঘাত আরও তীব্র হলে মার্কিন বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবা এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় একটি ড্রোন আঘাত হানলে ওই চার সেনা নিহত হন। ড্রোনটি ইরানের পক্ষ থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল বলে জানানো হয়।

পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, নিহত চার সেনার বয়স ছিল ২০ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে। তারা সবাই আইওয়ার ডেস মইনস থেকে পরিচালিত ১০৩তম সাসটেইনমেন্ট কমান্ডে কর্মরত ছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বৈশ্বিক সরবরাহ ও লজিস্টিক কার্যক্রমের অংশ।

নিহত চার মার্কিন আর্মি রিজার্ভ সেনা হলেন—ক্যাপ্টেন কোডি এ. খর্ক (৩৫), তিনি ফ্লোরিডার উইন্টার হ্যাভেনের বাসিন্দা। সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস নোয়া এল. টিটজেন্স (৪২), তিনি নেব্রাস্কার বেলভিউয়ের বাসিন্দা। সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস নিকোল এম. আমোর (৩৯), তিনি মিনেসোটার হোয়াইট বেয়ার লেকের বাসিন্দা। এছাড়া কোডি নামে আরেকজন সেনা এই হামলায় নিহত হয়েছেন, তাকে মৃত্যুর পর স্পেশালিস্ট পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে এবং তিনি ২০২৩ সালে আর্মি রিজার্ভে যোগ দিয়েছিলেন।

৭৯তম থিয়েটার সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল টড এরস্কাইন এক বিবৃতিতে নিহত সেনাদের স্বজন ও ইউনিট সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। পেন্টাগনের তথ্যে বলা হয়, নিহত সেনাদের অধিকাংশেরই বিদেশে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা ছিল। কোডি খর্ক ২০১৮ সালে সৌদি আরব, ২০২১ সালে কিউবার গুয়ানতানামো বে এবং ২০২৪ সালে পোল্যান্ডে দায়িত্ব পালন করেন। নিকোল আমোর ২০১৯ সালে কুয়েত ও ইরাকে মোতায়েন ছিলেন। নোয়া টিটজেন্স ২০০৯ ও ২০১৯ সালে দুই দফা কুয়েতে দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের জেরে আরও মার্কিন সেনা নিহত হতে পারেন, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে পাল্টা আক্রমণ জোরদার করেছে তেহরান। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানায়, ইরান এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা হামলায় ৫০০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজারের বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।

এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা নিয়ে মঙ্গলবার আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপস্থিত ছিলেন।

পড়ুন: চাঁদাবাজ-অস্ত্রধারীদের তালিকা করে শিগগিরই সারাদেশে অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন