নেত্রকোনার মদন উপজেলায় এক কারারক্ষীর বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় নগদ অর্থ, প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার লুট এবং বৃদ্ধ বাবাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এরআগে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কারারক্ষী মো. আলমগীর হোসেন মাসুদ বাদী হয়ে গতকাল (মঙ্গলবার) মদন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী মো. আলমগীর হোসেন মাসুদ (৪২) মদন উপজেলার উত্তর দেওলজিলা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মতিউর রহমান ভূইয়ার ছেলে। তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে কারারক্ষী পদে কর্মরত রয়েছেন।
থানায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্ববিরোধের জের ধরে গত ২ মার্চ ভোর ৫টার দিকে একই গ্রামের জালাল উদ্দিন জিলু, হামিদ আলী, সুনাই মিয়া, জহিরুল ইসলাম, মিরাজুলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা বাড়ির উত্তর পাশের সীমানা প্রাচীরের সিমেন্টের পিলার ও টিনের বেড়া ভাঙচুর করে এবং ড্রিল মেশিন দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া কেটে ফেলে। এতে বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা আলমগীর হোসেনের বৃদ্ধ পিতাকে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেয় এবং গলায় চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে।
লুটপাটের বিষয়ে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা বসতঘরে ঢুকে ট্রাংকে রাখা প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও কিছু রূপার গহনা (যার আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ টাকা), নগদ দেড় লাখ টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায়। এছাড়া ৮০টি সিমেন্টের পিলার, ১২ বান টিন এবং ১৫ হাজার টাকার কাঁটাতারও খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। যাওয়ার সময় মামলা করলে প্রাণনাশ ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের হুমকি দেয় হামলাকারীরা।
খবর পেয়ে আলমগীর হোসেন বাড়িতে এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিরাজুল ইসলাম বলেন, “তারা আমার বাবা ও দাদার জায়গা জোর করে দখল করে খাচ্ছেন। আমরা আদালতের ডিক্রী পেয়েই বেড়া ভেঙেছি।”
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, “ঘটনার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পড়ুন : নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন কর্তৃক সীমান্ত থেকে ভারতীয় মদ জব্দ


