বিজ্ঞাপন

নীলফামারীতে হাসপাতালে মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী,গৃহবধূর মৃত্যু ঘিরে রহস্য

নীলফামারী সদরের রামনগর ইউনিয়নের মাঝাপাড়া এলাকায় গৃহবধূ শাপলা আক্তারের মৃত্যু ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা ও চাঞ্চল্য। পরিবারের অভিযোগ, তাকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের পর পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত স্বামীর দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি নিজেই বিষপান করেছেন।
রোববার সকালে শাপলা আক্তার তার মায়ের কাছে ফোন করে জানিয়েছিলেন, তাকে মারধর করা হয়েছে এবং তিনি গুরুতর অসুস্থ। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলেন তিনি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই মাঝাপাড়া এলাকার এক ব্যক্তি ফোন করে জানায়, শাপলা বিষপান করে মারা গেছেন।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর শাপলার স্বামী মোরসালিন মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান। এতে ঘটনাটি আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে।
নিহতের চাচাতো ভাই আশিকুল ইসলাম জানান, আমার বোনকে দীর্ঘদিন ধরে মারধর করত তার স্বামী। আমরা একাধিকবার শালিস করেছি। কিন্তু ছোট একটি মেয়ের কথা চিন্তা করে শাপলা সংসার টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাত বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে শাপলা ও মোরসালিনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে চার বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। শিশুটি জানায়, ঘটনার সকালে তার বাবাকে মাকে মারধর করতে দেখেছে, যা এই ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অভিযুক্ত মোরসালিন দাবি করেন, আমরা দুজনই উত্তরা ইপিজেডে চাকরি করি। বাড়িতে সুবিধা না থাকায় আমার স্ত্রী ভাড়া বাসায় থাকতে চাইছিল। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সে আগে থেকে রাখা কীটনাশক পান করে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত শাপলার মা বলেন, সকালে মেয়ে ফোন দিয়েছিল। তখন চিৎকার শুনেছি, সে বলছিল হাসপাতালে যাচ্ছে। পরে জামাই ফোন করে জানায়, আমার মেয়ে আর নেই।
এদিকে, নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে তদন্ত টিম পাঠানো হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ইতোমধ্যে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাপলা আক্তারের বাড়ি নীলফামারী সদরের দুহলী পূর্বপাড়া এলাকায়। তার বাবা ওলিয়ার রহমান। আর অভিযুক্ত মোরসালিনের বাবার নাম গুলজার রহমান।
এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। নির্যাতন, আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা, তা নির্ভর করছে তদন্তের ফলাফলের ওপর। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, একটি ছোট্ট শিশুর সামনে ভেঙে গেল একটি পরিবার, আর হারিয়ে গেল এক নারীর জীবন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন:মাদারীপুরে ফরম ফিলাপের টাকা নিয়েও এডমিট কার্ড পেল না শিক্ষার্থীর, এসএসসি পরীক্ষায় অনিশ্চয়তা

দেখুন:সংকটে ওয়ান ব্যাংক, সমন্বয়ক বসাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক 

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন