ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ১৭তম ধাপ সম্পন্ন করেছে এবং এর মাধ্যমে অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বাহিনীটি দাবি করে, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার জায়নিস্ট শাসনের চোখ অন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’ খবর প্রেসটিভির।
আইআরজিসি জানায়, সাতটিরও বেশি অত্যাধুনিক রাডার ধ্বংস করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা নজরদারির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপিত ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ইসরায়েলের যুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ভবন এবং বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে আঘাত হানা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত প্রায় ১০০ ঘণ্টা ধরে দখলকৃত অঞ্চলে সাইরেন বেজে চলেছে এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন। এটি ‘সন্ত্রাসী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ধারাবাহিক ও নিয়ন্ত্রিত ছন্দের প্রমাণ’ বলেও দাবি করে আইআরজিসি।
তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ‘আগামী দিনগুলোতে হামলা আরও তীব্র ও বিস্তৃত হবে।’
এ পর্যন্ত অভিযানে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে তেল আবিব ও পবিত্র নগর আল-কুদস ছাড়াও কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, ভারত মহাসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’ এবং একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারে আঘাত হানা হয়েছে। বাহিনীর ভাষায়, এটি ছিল ‘শক্তিশালী ও কৌশলগত হামলা’।
একই দিনে আইআরজিসি জানায়, তারা অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় ডাটা সেন্টার’-এ ‘গুরুত্বপূর্ণ আঘাত’ হেনেছে। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বাহরাইনে অবস্থিত অ্যামাজনের একটি ডাটা সেন্টারের কথা উল্লেখ করা হয়। তাদের দাবি, এই কেন্দ্রগুলো শত্রুপক্ষের সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে সহায়তা করছিল।
পড়ুন: দুবাইয়ে আটকে পড়া ১৮৯ বাংলাদেশিরা ফিরলেন বিশেষ ফ্লাইটে
আর/


