33.5 C
Dhaka
০৫/০৩/২০২৬, ১৬:২১ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

দুদকের সাবেক কমিশনার আলী আকবার আজিজী নিজেই চূড়ান্ত দূর্নীতিগ্রস্থ

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিয়োগকৃত দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের মধ্যে গণমাধ্যমে সবথেকে বেশি কথা বলতে শোনা যেতো কমিশনার মিঞা মহাম্মদ আলী আকবার আজিজী। অথচ নিয়োগ পেয়ে ঠিক ১৬ দিনের মাথায় (২৬ ডিসেম্বর ২০২৪) তিনি তার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করিয়ে নেন এক প্রকারের ক্ষমতার অপব্যবহার করে।

বিজ্ঞাপন

দুদকের সাবেক কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আইন সচিব বরাবর গত ১২ মার্চ ২০২৫ একটি দরখাস্ত করেন জনৈক ব্যক্তি। চিঠিটি গ্রহণও করা হলেও কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়নি।
সাবেক (দুদক) কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগসমূহের মধ্যে ছিলো

১) ঋণ গ্রহণ ও খেলাপি হওয়ার অভিযোগ : মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ন্যাশনাল ব্যাংকের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্রাঞ্চ থেকে ২৬.২৮ কাঠা জমির উপর ১০ তলা বিশিষ্ট একটি বাণিজ্যিক ভবন “আজিজ টাওয়ার” নির্মাণের জন্য ১২ (বারো) কোটি টাকা হাউজিং লোন গ্রহণ করেন। উক্ত ঋণ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত হয় এবং ধারাবাহিকভাবে তিনি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হন। তখন তার মোট বকেয়া ঋণের পরিমাণ ১৭,১৭,৯৮,৩০৪.৬০ (সতেরো কোটি সতেরো লাখ আটানব্বই হাজার তিনশত চার টাকা ষাট পয়সা), যা স্পষ্টতই ঋণখেলাপির সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে।

২) দুদকের বিধিমালা লঙ্ঘন করে তার নিয়োগ পাওয়া : একজন ঋণখেলাপি ব্যক্তি হিসেবে মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার (তদন্ত) পদে যোগদান করেন। যা স্পষ্টতই দুদকের নিয়োগ বিধিমালা ও সরকারি চাকরি বিধিমালার পরিপন্থি। ঋণখেলাপির উচ্চপদে অধিষ্ঠিত থাকা দুদকের নিরপেক্ষতা ও স্বাচ্ছতাকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
৩) ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঋণ পুনঃতফসিল করানোর অভিযোগ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪, মাত্র ১৬ দিনের মাথায়, তিনি তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ পুনঃতফসিল (Reschedule) করিয়ে নেন।
ঋণ পুনঃতফসিল প্রক্রিয়াটি ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ, কারণ ঋণখেলাপিদের ক্ষেত্রে ব্যাংকের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ না করে তার বিশেষ সুবিধা গ্রহণের ঘটনা দুর্নীতির সুস্পষ্ট প্রমাণ।

কমিশনার মিঞা মহাম্মদ আলী আকবর আজিজী সাধারণত মিডিয়াতে নিয়মনীতির কথা বেশি আওড়াতেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে আলোচনার মাধ্যমে তিনি ঘুষের টাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জস্থ শাহ্ নেয়ামতউল্লাহ (রহঃ) এর মাজার কমপ্লেক্সের নামে গ্রহণ করতেন। এখানে একটি এতিমখানাসহ মাদ্রাসা আছে। মিঞা মহাম্মদ আলী আকবর আজিজী জনৈক ব্যক্তিকে দুদকের মামলায় খালাস করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেই এতিমখানায় ১৬ কোটি টাকা অনুদান নিয়েছিলেন বলে কথিত আছে। এটা ছিলো দুদক প্রধান কার্যালয়ে ওপেন সিক্রেট।

মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ ও লেখক। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বড় ইন্দারা মোড় নিবাসী আলহাজ্ব শাহজাহান আলী মিঞা ওরফে পচু হাজীর সন্তান।শাহজাহান আলী মিঞা হযরত শাহনেয়ামতুল্লাহ (র.)-এর নবম অধস্তন পুরুষ।

এক নজরে আলী আকবার আজিজীর দেয়া বক্তব্যের কিছু অংশ :
পাচারকারীরা হচ্ছে শয়তানের মত। শয়তান শিরা-উপশিরায় যায়, তাকে দেখা যায় না। শয়তানের কর্মকাণ্ডে দুর্ভোগ মানুষ ভোগ করে। পাচারকারীদের জন্য আমরা দুর্ভোগ ভোগ করছি। পাচারকারীকে যদি আমার কোনো না কোনোভাবে ধরতে পারি, ছাড় দেব না। (২৩ এপ্রিল ২০২৫)
‘দলমত দেখে বিবেচনা না করে, সততার সাথে দৃশ্যমান প্রমাণ নিয়ে কাজ করবে দুদক। আমরা চেষ্টা করব তদন্ত যাতে এক্সরে রিপোর্টের মতো হয়। চিকিৎসকরা যেমন এক্সরে রিপোর্ট বা আলট্রাসোনো রিপোর্ট দেখে বলতে পারে কোথায় সমস্যা আছে তেমনি সমাজে থাকা বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির রোগকে দেখার জন্য দুদক আছে।’
( নিজ জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেয়া আলী আকবার আজিজীর বক্তব্য)

আমাদের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কোনো স্মেল (গন্ধ) যদি পাই, তাহলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। আগে আমরা ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশনে (শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা) যাচ্ছি। ডেফিনেটলি তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মনে রাখা দরকার, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় তাদের বেতন হয়। তাই জনগণের সেবা করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। সরকারি কর্মকর্তাদের নিজ দায়িত্বে প্রত্যেকের দপ্তর দুর্নীতিমুক্ত রাখুন। দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গঠনে আমাদের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। দুর্নীতি নির্মূলের উদ্যোগ নিজেদের ঘর থেকে শুরু করতে হবে।
(দিনাজপুরে গণশুনানিতে দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী)

দুদকের বিরুদ্ধে যদি সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত করতে গিয়ে অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে, তাই আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। (টাঙ্গাইলে দুদকের গণশুনানিতে আলি আকবার আজিজী )

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন