29.4 C
Dhaka
০৫/০৩/২০২৬, ২০:৪১ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

রূপগঞ্জে আবাসন কোম্পানির বালির তলায় ৩০ টির অধিক খাল; পুনরুদ্ধার করে খননের দাবি

বসন্ত পেরিয়ে বর্ষার দিকে যাত্রা করছে প্রকৃতি। এতে আতঙ্ক বাড়ছে রূপগঞ্জবাসীর। কারন, আবাসন কোম্পানির বালির তলায় পড়ে আছে রূপগঞ্জের প্রায় ৩০ টির অধিক সরকারী খাল। শুধু তাই নয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনস্থ খালগুলো খানাখন্দে ভরাট হয়ে স্থানীয় জনজীবনে প্রভাব পড়েছে পরিবেশ বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে। এদিকে বর্ষার সময় টানা বর্ষনে রূপগঞ্জের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে ভোগান্তির শিকার হন।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভায় ২ টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের পৃথক কৃষি অঞ্চল রয়েছে। যেখানে দুফসলি কখনো তিন ফসলি চাষাবাদ হয়। আবার বাঁধের ভেতরে থাকা গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। বর্তমানে পানি না পেয়ে ফসল ফলাতে পারছেন না স্থানীয় কৃষকরা। তবে, বৃষ্টি ও বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আগেই যেন প্রভাবশালীদের হাত থেকে খাল পুনরুদ্ধার করে খনন ও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা হয় এমন দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ।
‎ 
সূত্রমতে নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী অগ্রণী সেচ প্রকল্প-১ , ১৯৮৪ সালে ৯০ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী অগ্রণী সেচ প্রকল্প-১ ও পরে ১৯৯৩ সালে ১০১ কোটি টাকা ব্যয়ে শীতলক্ষ্যার পূর্বপাড়ের পাঁচ হাজার হেক্টর জমি ঘিরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
‎ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতায় সরকারি খালসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানেল প্রভাবশালীদের হাতে দখল ও ভরাট হয়ে যায়। ৯০ ফুট প্রশস্তর খাল এখন হয়ে গেছে ১০ ফুট। কোন কোন স্থানে খালের অস্তিত্ব নেই। খাল দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে বহুতল বাড়ি। ফলে টানা বর্ষণ আর পানি নিষ্কাশনের অব্যবস্থাপনায় গত বেশকয়েক বছর ধরেই স্থায়ী জলাবদ্ধতা রূপ নেয়।  সামান্য বৃষ্টি হলেই তারাবো, মাসাবো, বরপা, কর্ণগোপ, আরিয়াবো, রূপসী, মুড়াপাড়া, পাছাইখা, মাঝিপারা, হাটাবো, আতলাশপুর, কাঞ্চন, ভুলতা, গোলাকান্দাইল, নাগেরবাগসহ প্রায় ৪০ গ্রাম তলিয়ে যায়। পানিবন্দি হয়ে পড়ে অন্তত লক্ষাধিক মানুষ। হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে। আবার কিছু এলাকায় কৃষকরা সেচের পানি না পেয়ে বছরের পর বছর ক্ষতি সম্মুখীন হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কৃষি জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। বেরিবাধ এলাকায় বর্ষার পানিতে রাস্তা-ঘাট ডুবে যায়। বাড়ির উঠানে, এমনকি ঘরের ভেতরেও ওঠে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি। মাছের খামার ভেসে যায়, ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়। অনেক পরিবার আশ্রয় নেয় আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের উপক্রম হয়, ব্যাহত হয় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
তাই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে প্রভাবশালীদের হাত থেকে খাল পুনরুদ্ধার করে খনন ও দখলমুক্তকরণই এখন রূপগঞ্জবাসীর প্রধান দাবি।

‎সরকারি খাল গুলো অপরিকল্পিতভাবে প্রভাবশালীরা বিভিন্ন টাকা আধা পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে দখলে নিয়েছেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে খাল গুলো বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে করে পানি যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা খালের পানি না পেয়ে ফসল ফলাতে পারছেন না। এছাড়াও আরো নানা ধরনের অভিযোগ স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর।


‎গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাসির মিয়া বলেন, নব নির্বাচিত এমপি  ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্দেশ দিয়েছেন বর্ষার আগেই খাল খনন করার জন্য।

রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরোজা সুলতানা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। খাল গুলো দখল এখনো অব্যাহত রয়েছে।

‎পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (পুর)  রাকিবুল আলম রাজিব মুঠোফোনে বলেন, খাল খননের টেন্ডার হয়েছে। খাল গুলো প্রভাবশালীদের হাত থেকে পুনরুদ্ধার করে আমরা বর্ষার আগেই খাল খনন শেষ করবো।

‎রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান  বাংলাদেশের সমস্ত খাল পুনঃ খননের উদ্যোগ নিয়েছেন।  আমরা খালের তালিকা পাঠাচ্ছি। মন্ত্রণালয় থেকে খাল খননের বরাদ্দ আসবে।

‎নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ আসনের  নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু বলেন, যারা সরকারি খাল দখল করে রেখেছেন তারা এ জায়গা ছেড়ে দেন। আমরা খালগুলো পুনঃ খনন করে  পানির ক্যানেলগুলো ঠিক করবো।

তবে আবাসন কোম্পানির বালির তলায় পড়ে থাকা খালগুলো উদ্ধারের বিশেষ জোর দাবী জানিয়েছেন রূপগঞ্জের সাধারন বাসিন্দারা।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন