মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য এই অভিযানের একটি রুট হিসেবে ইরাক ব্যবহারের কথাও আলোচনায় এসেছে। এদিকে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী কুর্দি বাহিনী মার্কিন মদদে ইতোমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
যুদ্ধরত ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র—তিন পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে। উভয় পক্ষের গোলাবারুদ ও সামরিক রসদেও টান পড়েছে বলে জানা গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আর কোনো আলোচনায় তিনি আগ্রহী নন। বিশ্লেষকদের মতে, তার এই মন্তব্য যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত বহন করছে।
অন্যদিকে ইরানও দীর্ঘমেয়াদি তীব্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যৌথ সামরিক চাপের মুখে ইরান কত দিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ইরানের শক্তিশালী সামরিক সংগঠন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, বর্তমান তীব্রতায় ইরান কমপক্ষে আরও ছয় মাস যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম।
আইআরজিসির মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা রয়েছে।
তার এই মন্তব্য এসেছে এমন সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অত্যন্ত সফল হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, চলমান হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কৌশলগতভাবে এগিয়ে রয়েছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা এখনও শক্তভাবে প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে পারবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা তাদের রয়েছে। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
পড়ুন: ঈদযাত্রা: আজ বিক্রি হচ্ছে ষষ্ঠ দিনের ট্রেনের টিকিট
আর/


