গাজীপুর সদর উপজেলায় একটি পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা দখল নিতে ট্রাকচালককে মারধর ও কয়েকটি ট্রাক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে মির্জাপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াসিম শিকদারের বিরুদ্ধে। তিনি স্থানীয় আক্কাস আলী সিকদারের ছেলে। এ ঘটনায় ট্রাকচালক শরিফুল ইসলাম নামে একজন জয়দেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
রোববার (৮ মার্চ) সকাল আটটার দিকে সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বি.কে. বাড়ি এলাকায় অবস্থিত রেনেসাঁ অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ট্রাকচালক শরিফুল ইসলাম (৫২) যশোর সদর থানার মুরালী গ্রামের আফছার আলী শেখের ছেলে। তিনি “ফাহিম রহিম আব্দুল্লাহ ট্রেডার্স” প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন একটি ট্রাকের চালক হিসেবে কর্মরত।
তিনি জানান, তারা গত ছয় মাস ধরে ওই কারখানা থেকে ঝুট সংগ্রহ করে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় রোববার সকালে প্রতিষ্ঠানের মালিকের নির্দেশে তিনি ও অন্যান্য চালকসহ মোট সাতটি ট্রাক নিয়ে গাজীপুর সদর উপজেলার বি.কে. বাড়ি এলাকায় অবস্থিত রেনেসাঁ অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানায় মালামাল আনতে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর ওয়াসিম শিকদার (৪২) সহ স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এবং তাদের সঙ্গে থাকা ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের পথরোধ করে। এ সময় তারা ওই প্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল নিতে দেবে না বলে জানায় এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে হামলাকারীরা তার ট্রাকসহ অন্যান্য ট্রাকে ভাঙচুর শুরু করে।
তিনি বাধা দিলে হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। এ সময় অন্য ট্রাকচালকরা এগিয়ে এলে তাদেরকেও মারধর করা হয় এবং কয়েকটি ট্রাকে ভাঙচুর চালানো হয়।
পরে চালকদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় তারা পুনরায় ওই কারখানায় মালামাল আনতে এলে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ট্রাকচালকরা গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওয়াসিম শিকদার, হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন, এবং এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। কারখানা থেকে ঝুটের মালামাল চুরি করে বাইরে নেওয়া হবে এমন তথ্যের ভিত্তিতে গাড়িগুলো থামানো হয়। এ সময় সংশ্লিষ্টদের কাছে মালামাল নেওয়ার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বলা হলে তারা কোনো বৈধতা দেখাতে পারেননি। পরে তাদেরকে ফিরে যেতে বলা হয়। পরবর্তীতে তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশের উপস্থিতিতে গাড়িগুলো নিয়ে চলে যায়।
পড়ুন : গাজীপুরে সড়কের পাশ থেকে সুজন সহ-সভাপতির হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার


