ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্যে রাজধানী তেহরানে আবারও ভয়াবহ বোমাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যুদ্ধ শুরুর পর এটিকে সবচেয়ে তীব্র হামলাগুলোর একটি বলা হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। একই দিনে তেহরানসহ ইরানের একাধিক শহরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে শহরের পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম অংশে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে তা আশপাশের ভবনের জানালা কাঁপিয়ে দেয়। তবে ঠিক কোন জায়গাগুলো লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
কারণ ইরান সরকার সাধারণত এ ধরনের হামলার নির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করে না এবং গণমাধ্যমের জন্য হামলার স্থানগুলোতে প্রবেশও সীমিত রাখা হয়। তবে জানা গেছে, হামলাগুলো ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে তীব্র আঘাতগুলোর মধ্যে অন্যতম।
এছাড়া দিনভর তেহরানের আশপাশের এলাকাসহ আরও কয়েকটি শহরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে আহওয়াজ, ইসফাহান এবং তেহরানের পশ্চিমের শহর কারাজ। কারাজে হামলার ফলে শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অবশ্য দেশজুড়েই বোমাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে ইসফাহানে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে গভর্নরের কার্যালয় এবং ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে।
পূর্ব তেহরানের রিসালাত স্কয়ারের কাছে হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এতে আবারও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ পর্যন্ত সংঘাতে বেসামরিক নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের আবাসিক ভবনগুলোতে বোমা হামলা চালায়। এতে প্রায় ৪০ জন নিহত হন বলে আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে।
তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলাগুলো তেহরানের রিসালাত স্কয়ারের কাছাকাছি একটি এলাকায় চালানো হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত বেড়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
পড়ুন: আজ ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, পাচ্ছেন ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন
আর/


