ইন্সপেক্টর আব্দুর রাজ্জাক পাবনার সুজানগর উপজেলার পোড়াডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘ চাকরি জীবনের বড় একটি সময় বগুড়ায় কাটিয়েছেন। কনস্টেবল হিসেবে চাকরি শুরু করে বর্তমানে ইন্সপেক্টর পদে থাকা এই কর্মকর্তা বগুড়ায় নিজ বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ির সূত্রে স্থায়ী বসবাসও গড়ে তুলেছেন।
তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালের ২৯ জুলাই রাজশাহীতে পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন তিনি। প্রায় ৬ বছর কনস্টেবল হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০০০ সালে এএসআই পদে পদোন্নতি পান। পরে ২০০২ সালের ৩১ অক্টোবর বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা থানায় যোগ দেন, যা তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা।
পরবর্তীতে প্রায় দুই বছর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ–এ দায়িত্ব পালনের পর আবারও বগুড়া অঞ্চলে যোগ দেন তিনি। ২০১০ সালের ১৬ মে সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে বগুড়া সদর থানায় দায়িত্ব পালনকালে শহরের জহুরুল নগরের কামারগাড়ী এলাকায় একটি পাঁচতলা বাড়ি নির্মাণ করেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সে সময় পুলিশ সদর দপ্তরের অনুমতি ছাড়াই বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
চাকরি জীবনে তিনি নাচোল উপজেলা, শিবগঞ্জ উপজেলা ও বগুড়া সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে নওগাঁ পুলিশ লাইনস, আদমদীঘি উপজেলা এবং কাহালু উপজেলা থানায়ও কর্মরত ছিলেন।
এক পর্যায়ে প্রশাসনিক কারণে তাকে কক্সবাজারের এপিবিএন–১৪ এ বদলি করা হয়। সেখানে প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালনের পর আবারও বগুড়া এপিবিএন–৪ এ যোগ দেন তিনি। পরে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে চৌমুহনী পুলিশ ফাঁড়িতে ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত আছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়ায় কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের সুনাম ও সমালোচনা দুটিই শোনা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, সে সময় তৎকালীন ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ নেতারা নির্বাচিত হলে তিনি তাদের বাসা বা দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতেন। এছাড়া দলের বিভিন্ন মিছিলে অংশ নিয়ে সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার ঘটনাও রয়েছে।
তবে একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন কাজ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন কাজে সহায়তার নামে অর্থ লেনদেনের ঘটনাও ঘটেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাংবাদিক জানান, শিবগঞ্জ থানার মোকামতলা ফাঁড়িতে কর্মরত থাকার সময় কাজের কথা বলে তার এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কাজও হয়নি এবং টাকা ফেরতও দেওয়া হয়নি।
এদিকে বগুড়া শহরের জহুরুল নগরে তার পাঁচতলা বাড়ির পাশাপাশি নামে-বেনামে আরও সম্পদ রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। অতীতে সম্পদের হিসাব চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকেও তাকে তলব করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি তাকে আবারও বগুড়ায় বদলির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এমন একটি স্বাক্ষরবিহীন আদেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইন্সপেক্টর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমার একটি বদলির আদেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সেটি কীভাবে হয়েছে আমি জানি না। এই মুহূর্তে বগুড়ায় চাকরি করার ইচ্ছা আমার নেই।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে তিনি বগুড়ার ভোটার এবং সেখানেই বসবাস করছেন।
এ বিষয়ে বগুড়া পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, বিষয়টি আমার কানেও এসেছে তবে এরকম কোনোও বদলির আদেশ আমাদের কাছে আসেনি।
পড়ুন: আগামীকাল খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন, দিনাজপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
আর/


