বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, হাজার হাজার ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে আমরা যে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, সেখানে আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং প্রতিটি নাগরিকের সমান মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে নেত্রকোনার কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নের ১নং ও ৩নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনগণের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশরপাশা হরিশ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার রূপরেখা নিয়ে কথা বলেন। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান ব্যবস্থায় সরকারি দল দেশের অধিকার বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করবে এবং বিরোধী দল গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গত ১৫-২০ বছর বাংলাদেশে কোনো বিরোধী দল বা মত ছিল না। তৎকালীন সংসদ ছিল সরকারি দলের একটি ‘রাবার স্ট্যাম্প’ বা গৃহপালিত বিরোধী দলের আখড়া। আর এ কারণেই দেশে ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছিল।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতুন বাংলাদেশে প্রতিটি ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণির মানুষ সমান আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করবেন।
স্থানীয় সমাজ ব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে নতুন রূপরেখা তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, “আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে একটি গণভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করতে চাই। যেখানে মসজিদকে কেন্দ্র করে মসজিদ-ভিত্তিক এবং হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় মন্দিরকে কেন্দ্র করে মন্দির-ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।”
এলাকাকে মাদকমুক্ত করার বিষয়ে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে কায়সার কামাল বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের নীতি হলো ‘জিরো টলারেন্স’। পুলিশ প্রশাসন ইতোমধ্যে মাদক নির্মূলে কাজ শুরু করেছে। আমি সবাইকে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।” তবে মাদকাসক্ত তরুণদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তিনি বলেন, “যারা মাদক সেবন করে বিপথে গেছে, তারা আমাদেরই সন্তান। তাদেরকে বুঝিয়ে সুপথে ফিরিয়ে আনতে হবে।”
বিশরপাশা হরিশ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে এবং মো. ফেরদৌস মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ভাগাভাগি করে নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পড়ুন: খুলনায় একই পরিবারের ৪ জনকে গুলি, ২ জনকে ঢাকায় প্রেরণ
আর/


