মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে পটুয়াখালীর ৩৫টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। প্রায় ৮০ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে সংগতি রেখে রোজা রাখা ও ঈদ উদ্যাপনের রেওয়াজ অনুসরণ করে আসছেন তারা।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৯টায় সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরিফে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বদরপুর দরবার শরিফ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শফিকুল ইসলাম আব্দুল গনি।
জানাগেছে, পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ও ছোট বিঘাই, গলাচিপা উপজেলার সেনের হাওলা, পশুরীবুনিয়া, নিজ হাওলা ও কানকুনি পাড়া, বাউফল উপজেলার মদনপুরা, শাপলাখালী, রাজনগর, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, সুরদী, চন্দ্রপাড়া, দ্বি-পাশা, কনকদিয়া, সাবুপুরা, বামনিকাঠী, বানাজোড়া ও আমিরাবাদ এবং কলাপাড়া উপজেলার দক্ষিণ দেবপুর, পাটুয়া, মরিচবুনিয়া, নাইয়াপট্টি, নিশানবাড়িয়া, শাফাখালী, তেগাছিয়া, ছোনখোলা ও বাদুরতলীসহ এসব গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার এ প্রথার অনুসারী। এসব গ্রামে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ এই রীতি অনুযায়ী ঈদ উদ্যাপন করেন। দীর্ঘদিনের ধর্মীয় রীতি ও ঐতিহ্য অনুসরণ করে এসব পরিবার একত্রে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করবে।
তাদের ঈদ উদ্যাপনের কেন্দ্রবিন্দু বদরপুর দরবার শরিফ, যেখানে প্রতি বছর আগাম ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
১৯২৮ সালে এক পীরের উদ্যোগে সৌদি আরবের চাঁদের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালনের এ প্রথার সূচনা হয়। আগাম ঈদ উদযাপনকারী এসব মানুষ সবাই হানিফি মাজহাব ও কাদেরিয়া তরিকার অনুসারী। তাদের বর্তমান পীর হলেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হজরত শাহসুফি মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মমতাজ আলী।
বদরপুর দরবার শরিফ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ শফিকুল গনি বলেন, ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য সংবাদ পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ঈদ উদ্যাপন করা শরিয়তসম্মত।
এদিকে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, আগাম ঈদ উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদ্যাপন নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রয়েছে।
পড়ুন- বাসে বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগে বিভিন্ন এলাকায় জরিমানা
দেখুন- সাংবাদিকদের কল্যাণে নানান উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: বাছির জামাল


