বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ‘হিন্দু-মুসলিম-গারো-হাজং-খ্রিষ্টান’ সবার সুন্দর বাগান: ডেপুটি স্পিকার

“সংবিধানে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা সবাই এ দেশের সমান নাগরিক, কেউ ‘মাইনরিটি’ বা সংখ্যালঘু নই। নিজেদের সংখ্যালঘু ভেবে হীনম্মন্যতায় ভোগার কোনো কারণ নেই, এমন ধারণা থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বেরিয়ে আসতে হবে।”

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন বিকেলে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গারো ব্যাপ্টিস্ট কনভেনশন (জিবিসি) উইমেন্স সোসাইটির সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

ডেপুটি স্পিকার হিসেবে শপথ গ্রহণের পর নিজ নির্বাচনী এলাকায় এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রোগ্রাম বলে তিনি জানান।

দুর্গাপুরের জিবিসি শতরূপা ভবন প্রাঙ্গণে ২০ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী জিবিসি উইমেন্স সোসাইটির ‘সুবর্ণজয়ন্তী (৫০তম মহিলা ক্যাম্প)’ উদযাপিত হচ্ছে। এবারের মূলসুর নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘ভ্রাতৃত্ব’।

অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নারী শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেন। ফরাসি সেনাপতি নেপোলিয়ান বোনাপার্টের বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।” একটি পরিবার বা সমাজ তখনই সত্যিকার অর্থে বিকশিত হয়, যখন নারীদের আধ্যাত্মিক ও শিক্ষাগত ক্ষমতায়ন ঘটে। তিনি জিবিসি সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীদের দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে বিভিন্ন দূতাবাসের (অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র) সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে নেটওয়ার্কিং গড়ে তোলার পরামর্শ দেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে এক্ষেত্রে তার সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

আদিবাসী সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবি ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ে তিনি জিবিসি নেতৃত্বের সাথে বসে দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি সুন্দর বাগানের মতো, যেখানে হিন্দু, মুসলিম, গারো, হাজং, খ্রিষ্টান- সব সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করে। আমি এই বাগানের একজন মালী হিসেবে আপনাদের সবার সাথে কাজ করতে চাই।” এছাড়া যোগ্যতার ভিত্তিতে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সেন্ট্রাল উইমেন্স সোসাইটি (জিবিসি) এর সভাপতি পা. সুলেখা স্রং এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের (ফুলবাড়িয়া এপি) এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিসেস নম্রতা হাউই ও বিশেষ অতিথি ছিলেন জিবিসি’র প্রেসিডেন্ট সুবন্ত রখো।

এরআগে, বর্ণাঢ্য এ আয়োজনের শুরুতে ঐতিহ্যবাহী গারো নৃত্যের মাধ্যমে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিদের বরণ করে নেওয়া হয়। পরে অতিথিবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে সুবর্ণজয়ন্তীর কেক কাটেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে গারোদের ঐতিহ্যবাহী পাগড়ি ও উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।

পড়ুন- ঈদের দিনও তেল নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা

দেখুন- যমুনা সেতুতে বেপরোয়া গতিতে ট্রাক চালানোয় চালকের পরিণতি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন