মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান সময় কঠিন সময়, সেটি আমাদের স্বীকার করতে হবে। অর্থনৈতিক ভঙ্গুর অবস্থায় আমরা আমরা দায়িত্ব নিয়েছি, এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ শুরু হলো। এতে অর্থনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং এই যুদ্ধ যদি চলতে থাকে চাপটা আরও বাড়তে থাকবে।’
আজ রোববার সকালে চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগ বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ঈদ–পরবর্তী মতবিনিময়ের সময় এসব কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য।
বর্তমান সরকার জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে খুবই সজাগ এবং জ্বালানি কেনা অব্যাহত আছে বলে জানান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, জ্বালানির অভাবে যাতে মিল-কারখানা, বিদ্যুৎ খাত বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য ভালো ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এখনো মোটামুটি স্থিতিশীল আছে। এই ধারা অব্যাহত রাখার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধ যদি বেশি দিন অব্যাহত থাকে, তাহলে চাপ বাড়তে থাকবে।
এই চাপ বাড়তে থাকলে তা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপর আসবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘যেভাবে বিশ্বব্যাপী আসছে, সেটা বাংলাদেশেও আসবে। আমরা এখনো যেমন তেলের মূল্যবৃদ্ধি করিনি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করিনি, বাসভাড়া বৃদ্ধি করিনি। মোটামুটি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধরে রাখার জন্য চেষ্টা করছি। এখন জনগণের সহযোগিতা ও সমর্থন লাগবে। সংযমের মাধ্যমেই মোকাবিলা করতে হবে।’
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে এই দেশে চাপ অনেক বেশি মন্তব্য করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘যুদ্ধ তো আমাদের হাতে নেই, যুদ্ধ হচ্ছে অন্য জায়গায়। তবে বাংলাদেশসহ সব দেশে কম বেশি এর প্রভাব পড়ছে। তবে বাংলাদেশে বেশি। কারণ, আমাদের জ্বালানির মূল সোর্সটা (উৎস) হচ্ছে ওখানে (মধ্যপ্রাচ্য)।’
তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। বিশ্বের অনেক দেশ তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। এই ঈদের সময় তেলের কারণে কেউ আটকে ছিল না। সবাই যার যার গন্তব্যস্থলে সঠিক সময়ে গেছেন। ভাড়াও বৃদ্ধি করতে পারেনি।
পড়ুন : জ্বালানি তেলের সংকটে রাজধানীর অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প বন্ধ


