দ্য ইকোনমিস্টের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কৌশল ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। একদিকে যুদ্ধ গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত, অন্যদিকে ইরানকে আল্টিমেটাম—এই দ্বৈত অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা আগেভাগে বিবেচনায় না আনায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল এখন চাপে পড়েছে। বর্তমান বাস্তবতায় ট্রাম্পের সামনে চারটি সম্ভাব্য পথ খোলা থাকলেও প্রতিটি পথই ঝুঁকিপূর্ণ।
১. আলোচনার পথ: ক্ষীণ সম্ভাবনা
কূটনৈতিক মহলের একটি অংশ এখনো আলোচনার সম্ভাবনা দেখলেও বাস্তবতা ভিন্ন। একাধিক হামলার পর ইরান আলোচনায় অনাগ্রহী। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকাশ্যে না আসায় দেশটির নেতৃত্ব নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে Oman ও Qatar-কে ঘিরে আরব বিশ্বে মতভেদ রয়েছে। পাশাপাশি পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে দুই পক্ষই কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
২. ‘বিজয়’ ঘোষণা করে প্রস্থান
ট্রাম্প চাইলে ইরানের সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে দাবি করে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করতে পারেন। এতে তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। তবে এতে ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে ভবিষ্যতে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের ঝুঁকি থেকেই যাবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী-এর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকলে তা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
৩. বর্তমান অবস্থা বজায় রাখা
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কট্টরপন্থিরা আরও সামরিক চাপ প্রয়োগের পক্ষে। তাদের ধারণা, এতে ইরান দুর্বল হবে এবং শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি হামলায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যয় ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিও বাড়ছে।
৪. যুদ্ধের বিস্তার: সর্বোচ্চ ঝুঁকি
মার্কিন অর্থমন্ত্রী Scott Bessent এই পথকে ‘শান্তির জন্য যুদ্ধ বাড়ানো’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় সরাসরি হামলা বা Kharg Island দখলের চেষ্টা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে। পাল্টা জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালালে বৈশ্বিক অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।
অনিশ্চিত সমাপ্তি
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই সংঘাত শুরু করা যতটা সহজ ছিল, তা থেকে বের হওয়া ততটাই কঠিন হয়ে উঠেছে ট্রাম্প-এর জন্য। যেকোনো সিদ্ধান্তই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বয়ে আনতে পারে। ফলে ওয়াশিংটন এখন এমন এক জটিল পরিস্থিতিতে রয়েছে, যেখানে প্রতিটি পথই ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত।
পড়ুন: দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র
আর/


