বিজ্ঞাপন

দেশে অকটেন-পেট্রোলের বর্তমান মজুত পরিস্থিতির আসল চিত্র জেনে নিন

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো তেল দিতে না পারায় দেশের জ্বালানির মজুতে টান পড়তে শুরু করেছে। একদিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চাপ, অন্যদিকে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় কনডেনসেট সংকট এবং বাজারে সিন্ডিকেটের কারসাজি- সব মিলিয়ে চরম জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দেশে বর্তমানে সব মিলিয়ে প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি তেল মজুতের সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা ডিজেলের মজুত ক্ষমতা ৬ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের বার্ষিক চাহিদা ছিল ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। সেই হিসেবে মাসিক চাহিদা ৩ লাখ ৬০ হাজার টন এবং দৈনিক গড় চাহিদা ১২ হাজার টন।

বিপিসি সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে সব মিলিয়ে প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি তেল মজুতের সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা ডিজেলের মজুত ক্ষমতা ৬ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের বার্ষিক চাহিদা ছিল ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। সেই হিসেবে মাসিক চাহিদা ৩ লাখ ৬০ হাজার টন এবং দৈনিক গড় চাহিদা ১২ হাজার টন।

চলতি মার্চ মাসে ডিজেলের চাহিদা বেড়ে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। গত ২১ মার্চ পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ৫২ হাজার ৫৩৯ মেট্রিক টন ডিজেল মজুত ছিল। দৈনিক ১২ হাজার ৭৭৭ মেট্রিক টন সরবরাহ অনুযায়ী বর্তমানে এই মজুতে আর মাত্র ১২ দিন চলা সম্ভব।

অন্যদিকে, দেশে অকটেনের মজুত সক্ষমতা ৫৩ হাজার ৩৬১ মেট্রিক টন। মার্চ মাসে এর গড় চাহিদা ছিল ৩৬ হাজার ৭০০ টন। বর্তমানে অকটেনের মজুত ৯ হাজার ৮২৯ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে। দৈনিক ১ হাজার ১৯৩ মেট্রিক টন সরবরাহ বিবেচনায় দেশে এখন মাত্র ৮ দিনের অকটেন মজুত রয়েছে।

দেশে পেট্রোলের মজুত সক্ষমতা ৩৭ হাজার ১৩ মেট্রিক টন। চলতি মার্চ মাসে পণ্যটির গড় চাহিদা দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ১০০ মেট্রিক টনে। বর্তমানে পেট্রোলের মজুত রয়েছে ১৬ হাজার ২২৫ মেট্রিক টন। দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৪৯৬ মেট্রিক টন সরবরাহ বিবেচনায় এই মজুতে আর মাত্র ১১ দিন চলা যাবে।

অন্যান্য জ্বালানির মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের মজুত সক্ষমতা ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৬৯ মেট্রিক টন। বর্তমানে দেশে ৪৪ হাজার ৪১৪ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল মজুত রয়েছে। দৈনিক ২ হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন সরবরাহ অনুযায়ী এই মজুতে আগামী ১৮ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের মজুত সক্ষমতা রয়েছে ৬৪ হাজার ১১৮ মেট্রিক টন। বর্তমানে দেশে জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে ৩৬ হাজার ৬৬১ মেট্রিক টন। দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৫৪৭ মেট্রিক টন চাহিদা অনুযায়ী, এই মজুতে আগামী ২৪ দিন পর্যন্ত সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে।

অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের পাশাপাশি দেশে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদনের একটি অন্যতম প্রধান উৎস হলো কনডেনসেট। প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলনের সময় উপজাত হিসেবে এই তরল হাইড্রোকার্বন পাওয়া যায়। বিগত অর্থবছরে পেট্রোবাংলা বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে মোট ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৩৭২ মেট্রিক টন কনডেনসেট সংগ্রহ ও পরিশোধন করেছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে পেট্রোলের মোট চাহিদা ছিল ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন, যার পুরোটিই অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন করা হয়েছে। একইভাবে, দেশের চারটি বেসরকারি সিআরইউ প্ল্যান্ট (কনডেনসেট রিফাইনারি ইউনিট) এবং সিলেটের হবিগঞ্জে পেট্রোবাংলার নিজস্ব সিআরইউ প্ল্যান্টে কনডেনসেট পরিশোধনের মাধ্যমে অকটেন উৎপাদন করা হয়। এই শোধনাগারগুলো তাদের উৎপাদিত তেল সরাসরি বিপিসির বিভিন্ন ডিপোতে সরবরাহ করে।

তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অকটেনের ৪ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন চাহিদার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন পর্যাপ্ত ছিল না। ফলে অভ্যন্তরীণ ঘাটতি মেটাতে বিপিসিকে বিদেশ থেকে ‘৯৫ রন’ (95 RON) মানের পরিশোধিত অকটেন আমদানি করতে হয়। গত অর্থবছরে মোট ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩ মেট্রিক টন এমন অকটেন আমদানি করেছে বিপিসি।

দেশে উৎপাদিত পেট্রোল ও অকটেনের এই ঘাটতির প্রধান কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন কমে যাওয়াকে দায়ী করছে বিপিসি। সাধারণত গ্যাস উত্তোলন কমলে উপজাত হিসেবে পাওয়া কনডেনসেট উত্তোলনও হ্রাস পায়।

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, গত এক বছরে দেশে গ্যাসের সামগ্রিক উৎপাদন প্রতিদিন গড়ে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমেছে। বর্তমানে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি মালিকানাধীন ২২টি গ্যাসফিল্ড থেকে দৈনিক ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এমনকি দেশের বৃহত্তম গ্যাসফিল্ড তিতাসের ২৬টি কূপ থেকে এ বছর দৈনিক ৩১৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, গত বছর যা ছিল ৩৭৮ মিলিয়ন ঘনফুট।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না : উপদেষ্টা জাহেদ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন