সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জাদুকাটা নদীর পশ্চিম তীরে রোববার ভোররাতে এক শ্রমিক লিয়াকত আলী বালুধসে নিহত হয়েছেন। নিহত লিয়াকত আলী জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাটের সিরাজপুর বাগগাঁও গ্রামের মৃত কুদ্দুছ মিয়ার ছেলে।স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত নদী জাদুকাটার পশ্চিম পাড়ে (বাঁশ বাগান) প্রভাবশালী মুসালমের নেতৃত্বে পাঁচ থেকে সাতজনের একটি চক্র রাতের আঁধারে অর্ধশতাধিক শ্রমিককে নিয়োজিত করে নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে খনিজ বালু উত্তোলন করছিল। শ্রমিকরা ছোট ছোট স্টিলবডি ট্রলারে বালু লোড করছিল।
এই সময় আকস্মিকভাবে নদীপাড়ের বালুধসে লিয়াকত আলী পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মারা যান। একই ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন, তবে তাদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হয়নি।ঘটনার পর মুসালম চক্রের সদস্যরা লাশ ট্রলারে করে গোপনভাবে সরানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। তাহিরপুর থানার এসআই পংকজ দাশ লাশ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। মুসালম ঘটনার বিষয়ে বলেন, “আমি বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলাম। কী হয়েছে, কে নিহত হয়েছে, এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অ্যাডভোকেট শাহ আলম তুলিপ বলেন, “দরিদ্র শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে রাতের আঁধারে নদীর পাড় কাটতে লাগানো, শ্রমিকের মৃত্যু এবং পরবর্তীতে লাশ গোপন করা—আইনের দৃষ্টিতে এটি হত্যাকাণ্ডের শামিল। সঠিক আইন প্রয়োগ করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। জাদুকাটা নদীর পশ্চিম পাড়ে বালুধস ও লাশ গোপনের এই ঘটনা এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
পড়ুন:চুয়াডাঙ্গায় ফুয়েল কার্ডে দেওয়া হবে জ্বালানি তেল
দেখুন:গাজীপুরে জ্বালানি তেল মজুতকারীদের কঠোর হুশিয়ারি দিলেন এমপি রনি |
ইমি/


