জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের বুকে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ছুটে এসেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা জোসনা আরা। হেঁটে জরুরি বিভাগে ঢুকে নিজেই শুয়ে পড়েন শয্যায়। কিন্তু তখন সেখানে ছিলেন না কোনো চিকিৎসক। চিকিৎসকের অপেক্ষায় থেকে প্রায় ২০ মিনিট পর বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। মঙ্গলবার (দুপুর ৩টার দিকে) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটনা ঘটে। জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক দুপুরের খাবার খেতে বাইরে থাকায় এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। এ নিয়ে হাসপাতালে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
নিহত জোসনা আরা (৬৫) নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী এবং একই উপজেলার মিঠাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা ছিলেন বলে জানাগেছে।
নিহতের স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৫৭ মিনিটে বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসেন জোসনা আরা। সে সময় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সুমাইয়া তৃষা দুপুরের খাবারের জন্য বাইরে ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন কেবল সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) নাহিদা সুলতানা। রোগীর অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি দ্রুত দায়িত্বরত চিকিৎসককে ফোন দেন। চিকিৎসক বাইরে থাকায় বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদকেও জানানো হয়। কিন্তু চিকিৎসক আসার আগেই প্রায় ২০ মিনিট অতিবাহিত হয়ে যায় এবং রোগী মারা যান।
নিহতের মেয়ের জামাই হোসেন আলী আক্ষেপ করে বলেন, আমার শাশুড়ি বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। তখন তিনি স্পষ্টভাবে কথা বলছিলেন, নিজেই বেডে গিয়ে শুয়ে পড়েন। কিন্তু জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সময়মতো না আসায় চিকিৎসা না পেয়ে তিনি মারা যান। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. সুমাইয়া তৃষার বলেন, দুপুরের খাবারের জন্য আমি বাইরে ছিলাম। স্যাকমোর ফোন পেয়ে দ্রুত এসে তাকে মৃত অবস্থায় পাই। তখন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিজেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ বলেন, জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় খবর পেয়ে আমি নিজেই রোগীর কাছে ছুটে যাই। কিন্তু গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পাই। স্বজনদের সাথে আমার কথা হয়েছে, তাদের কোনো অভিযোগ নেই। ঘটনাটি নিয়ে তথ্য বিভ্রাট ছড়ানো হচ্ছে।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা জানান, চিকিৎসক না থাকায় রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে উত্তেজনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মৃত্যুর প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।
পড়ুন : নেত্রকোনায় ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ: মূল হোতা পলাতক, স্ত্রীর মুচলেকা


