নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় গুমাই নদীর পাড়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই প্রকাশ্যে চলছে ‘পিবিসি (PBC)’ নামের একটি ইটভাটার কার্যক্রম। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে ইটভাটাটি তাদের উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। ভাটার মালিকপক্ষ অজ্ঞাত ‘রিট’ এর দোহাই দিয়ে প্রশাসন ও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গুমাই নদীর তীরে অবস্থিত ‘পিবিসি’ ইটভাটায় গিয়ে দেখা যায়, ভাটার চিমনি দিয়ে অনবরত ধোঁয়া উড়ছে। সেখানে মাটি কাটা, কাঁচা ইট তৈরি এবং পোড়ানোর বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে অবলীলায়।
এ ইটভাটার বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে নেত্রকোনা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মতিন সুস্পষ্টভাবে জানান, কলমাকান্দা উপজেলায় গুমাই নদীর পাড়ে অবস্থিত পিবিসি ইটভাটাটির পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। এটি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
ইটভাটার অবৈধ কার্যক্রম নিয়ে মুঠোফোনে কথা হয় ‘পিবিসি’ ইটভাটার মালিক দেলোয়ার হোসেনের সাথে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকার বিষয়টি তিনি অকপটে স্বীকার করে নেন। তবে ভাটা কীভাবে চলছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি চরম ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে বলেন, “সারা বাংলাদেশে যেভাবে চলতেছে, আমারটাও সেভাবেই চলতেছে।”
তিনি দাবি করেন, ইটভাটাটি ভাঙার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে ‘রিট’ করা আছে, যার কারণে ভাটা উচ্ছেদ করা যাবে না। তবে কে বা কারা রিট করেছে এবং রিটের আদেশে ইটভাটা চালানোর কোনো অনুমতি দেওয়া হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি এবং বিষয়টি এড়িয়ে যান।
ইটভাটায় উপস্থিত এক প্রতিনিধির (যিনি গত ৮-৯ দিন ধরে কর্মরত পরিচয় দেননি) সাথে কথা বললে তিনিও নিশ্চিত করেন, ‘পিবিসি’ ভাটাটির পরিবেশের কোনো ছাড়পত্র নেই। মালিকপক্ষের নির্দেশনায় তারা কাজ করছেন এবং তাদেরও জানানো হয়েছে ‘রিট’ রয়েছে।
ওই প্রতিনিধি আরও জানান, ভাটায় রাসেল খান নামে একজন ম্যানেজার রয়েছেন। এছাড়া, স্থানীয় পর্যায়ে ইটভাটার নিয়ন্ত্রণ বা দেখভালের ক্ষেত্রে ‘কিরণ’ নামের এক ব্যক্তির নাম উঠে আসে, যিনি নিজেকে স্থানীয় ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই সিন্ডিকেটের ছত্রচ্ছায়ায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ এমন কার্যক্রম চলছে।
দেশব্যাপী অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে সরকারের কঠোর অবস্থানের মাঝেও কলমাকান্দায় অবৈধ কার্যক্রম কীভাবে চলছে, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় কলমাকান্দা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলামের।
বিষয়টি জানার পর ইউএনও এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, “সারা দেশব্যাপী অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অনেক অবৈধ ভাটা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। গুমাই নদীর পাড়ের ‘পিবিসি’ ইটভাটার বিষয়টি আমার জানা ছিল না, কারণ আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। তবে যেহেতু পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র নেই এবং অবৈধভাবে কার্যক্রম চলছে, বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখা হবে। আইনানুগভাবে যা ব্যবস্থা নেওয়ার, অতি দ্রুত সেই ব্যবস্থা নেব।”
গুমাই নদীর তীরের পরিবেশ এবং ফসলি জমি রক্ষার্থে প্রশাসন দ্রুত অবৈধ পন্থায় গড়ে ওঠা ইটভাটার বিরুদ্ধে কার্যকরী ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করছেন।
পড়ুন- অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে আজ
দেখুন- ইরানের পক্ষে না থাকায় দুবাই ও আবুধাবির ১২০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি!


