বিজ্ঞাপন

রঙ-তুলিতে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন সাবার

সাবা ইসলাম বর্ন আর দশটা স্বাভাবিক শিশুর মতো কথা বলতে পারে না, কানেও শোনে না। তার পৃথিবীটা নিস্তব্ধ। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা হয়তো এক হাতে কেড়ে নিয়ে অন্য হাতে উজাড় করে দিয়েছেন। ১৪ বছর বয়সী এই কিশোরীর হাতের জাদুতে ক্যানভাসে ফুটে ওঠে জীবন্ত সব ছবি।
সাবা ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাঠগড়া গ্রামের বিস্ময়কর এক কিশোরী।

বিজ্ঞাপন

মাত্র ৪-৫ বছর বয়স থেকেই তার আঁকাআঁকির শুরু, তখন ক্যানভাস ছিল বাড়ির উঠোন আর খেলার মাটি। মেয়ের এই অদম্য আগ্রহ দেখে ৯ বছর বয়সে তাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ছবি আঁকা শেখানো শুরু করেন তার বাবা-মা। টাঙ্গাইলে ক্লাস টু-তে পড়ার সময় থেকেই তার এই শিল্পযাত্রার সূচনা।

অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া সাবার অর্জনের ঝুলিও কম ভারী নয়। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে এ পর্যন্ত সে জিতে নিয়েছে ৬০টি ক্রেস্ট এবং ৪০০টিরও বেশি বই। শান্ত ও সুবোধ এই মেয়েটির একমাত্র সঙ্গী এখন রঙ আর তুলি। এলাকাবাসীও সাবাকে নিয়ে গর্ব করেন, সবাই তাকে ভালোবাসেন।

প্রতিবেসি মীর সবুর বেন, সাবা আমাদের এলাকার গর্ব। ও কথা বলতে পারে না, কিন্তু ওর আঁকা ছবি কথা বলে। আমরা সবাই ওকে খুব আদর করি। ও অনেক বড় শিল্পী হবে এটাই আমাদের আসা ।

বাবা শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, এক ছেলে এক মেয়ের মধ্যে সাবা বড়। মেয়ে কথা বলতে পারে না, শোনে না। শুরুতে মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলেও এখন তার প্রতিভা দেখে গর্বিত পরিবার। তাদের একটাই স্বপ্ন, সাবা যেন একদিন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। তবে মনের কোণে রয়েছে এক সুপ্ত বেদনা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিতে পারলে হয়তো সাবা আবারও শুনতে ও কথা বলতে পারবে।

মা মুসলিমা খাতুনের বলন, শুরুতে খুব টেনশন হতো মেয়েটাকে নিয়ে। কিন্তু এখন ওর কাজ দেখে আমরা খুশি। ডাক্তার বলেছে বিদেশে নিলে মেয়েটা হয়তো কথা বলতে পারবে, কানে শুনতে পাবে। কিন্তু আমাদের তো সেই সামর্থ্য নেই। সরকার বা বিত্তবানরা যদি এগিয়ে আসতেন, আমার মেয়েটা স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতো।

শব্দহীন পৃথিবীতেও রঙের ভাষায় নিজের স্বপ্ন বুনছে সাবা। প্রয়োজন শুধু একটু সহযোগিতার হাত। হয়তো সুহৃদয়বান বা সরকারের একটু সাহায্যেই সাবার নীরব পৃথিবীতে ফুটবে শব্দের ফুল, আর সে হয়ে উঠবে আগামীর উজ্জ্বল নক্ষত্র।

পড়ুন- স্বর্ণের দামে ব্যাপক দরপতন, তেলের দাম আকাশচুম্বী

দেখুন- যু/দ্ধ ইরানে, ভোগান্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুরা! 

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন