ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দেশটির সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ভিন্নমুখী তথ্য সামনে আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে দাবি করে আসছেন, ইরানের সামরিক শক্তি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে এই দাবির বিপরীতে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে CNN।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) প্রকাশিত সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের এখনো উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা অক্ষত রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনো সচল রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কাছে এখনও হাজার হাজার একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন রয়েছে, যা তাদের মোট ড্রোন সক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশ। একটি সূত্র জানায়, এসব অস্ত্র ব্যবহার করে ইরান এখনো আঞ্চলিক পর্যায়ে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সক্ষমতা রাখে।
এ ছাড়া ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত বিপুলসংখ্যক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এখনো অক্ষত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিমান হামলায় এসব স্থাপনাকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু না করায় এই সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণ বা হুমকির মুখে ফেলার ক্ষেত্রে।
মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার পাশাপাশি ইরানের কাছে বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র এখনো মজুত রয়েছে।
এর আগে বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, দেশটির অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ও রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ১২ হাজার ৩০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এসব হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


