গাইবান্ধা সদর উপজেলার সহকারী ভূমি কমিনশার ( এসিল্যান্ড) জাহাঙ্গীর আলম বাবু বলেন, প্রেসক্লাবের যারা সদস্য তারাই শুধু সাংবাদিক। প্রেস ক্লাবের সদস্য ছাড়া আর কেউ সাংবাদিক দাবি করতে পারে না।
আজ শক্রবার দুপুরের শহরের পুলিশ লাইন সংলগ্ন হাসনা এন্ড হেনা ফিলিং স্টেশনে নাগরিক টিভি ও টাইমস অব বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন শামীমকে তিনি এসব কথা বলেন।
জানা গেছে, শহরের হাসনা এন্ড হেনা ফিলিং স্টেশনে তেলের অনিয়মের খবর শুনে প্রদিবেদক ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্বরত এসিল্যান্ড জাহাঙ্গীর আলম বাবুকে প্রতিবেদক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অনিয়মসহ চাকুরীজীবীদের কী প্রধান্য দিয়ে তেল দেওয়া হচ্ছে লাইন ছাড়াই জানতে চায়। গণমাধ্যমের পরিচয় দেওয়ার পরও এসিল্যান্ড সাফ জানিয়ে দেন, আপনি কোন ক্লাবের সদস্য, ক্লাবের সদস্য ছাড়া কেউ সাংবাদিক হতে পারে না।
এসময় আনোয়ার হোসেন শামীম এসিল্যান্ডকে বলেন, সাংবাদিকতা করতে প্রেস ক্লাবের সদস্য হওয়া বাধ্যতা মূলুক না। যে হাউজে কাজ করি সেই হাউজের পরিচয়ই আসল। তখন এসিল্যান্ড বলে উঠেন আপনি তাহলে সাংবাদিকই না। জেলায় যে পাঁচ ছয়টা ক্লাব আছে সেগুলো যে কোন একটা আগে সদস্য হন। তার পর সাংবাদিকতা করেন।
আনোয়ার হোসেন শামীম আরও বলেন, এসিল্যান্ড কথা জন সম্মুখে বলার পর, দেখতে পাই চাকুরীজীবদের সাথে কয়েকজনকে মোটর সাইকেলের তেল দিচ্ছেন। এসময় দেখা যায় যুবলীগ নেতা মেহেদী নামে এক ব্যক্তি যিনি কোন চাকুরীই করেন না ,তাকে তেল দিচ্ছেন। ওই ছবি তোলার সময় যুবলীগ কর্মী আমার ফোন ছিনিয়ে নেওয়া চেষ্টা করেন। তিনি আমাকে বলেন, আমরাই দেশ চালাই। আমাদের সাথে সাংবাদিকতা চলবে না।
শরিফুল ইসলাম নামে এক প্রত্যক্ষদশী বলেন, এসিল্যান্ড স্যারই আপনাকে সাংবাদিক না মানায় ওই ছেলে আপনার সাথে এমন করার সাহস পাইলো। তাছাড়া ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকার পরওই তাকে কোন কিছু জিজ্ঞাসা না করেই ছেড়ে দিল।
কলেজ শিক্ষক মকবুল বলেন, সকাল সাত থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়ে আছি, এখন তেল পাই না। অথচ চাকুরীরা লাইন ছাড়াই পাম্পে আসছে আর এক হাজার করে টাকা তেল নিয়ে যাচ্ছে। তার সাথে অন্য মানুষরাও দুই তিন করে তেল নিয়ে যাচ্ছে।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার সহকারী ভূমি কমিনশার (এসিল্যান্ড) জাহাঙ্গীর আলম বাবু বলেন, সাংবাদিকতা করতে হলে প্রেস ক্লাবের সদস্য বাধ্যতা মুলক না । ক্লাবের সদস্য ছাড়াও যে করতে পারবে, এটা আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে অনেক কিছু ক্লিয়ার হয়েছি। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চাকুরীজীবী ছাড়াই তেল নেওয়ার সময় আপনি যার ছবি তোলার কারনে আপনার সাথে যনি খারাপ আচারন করছেন, সে তাৎক্ষনিক লাপাত্তা হয়ে গেছে। আর পুলিশ সহযোগিতা করলেই তাকে আটক করা সম্ভব হতো। বলেন, আমি কি করব?
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্্িরকিউটিভ ম্যাজিস্টেট সাব্বির আহমেদ বলেন, দায়িত্বশীল জায়গা থেকে একজন পেশাদার সাংবাদিককে এসিল্যান্ড এভাবে কথা বলতে পারেন না। আর সাংবাদিকতা করতে হলে প্রেস ক্লাবের সদস্য হতেই হবে ওনি এটা কোথায় পেয়েছেন। ডিসি স্যারকে জানানো হবে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
তবে এবিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লাকে সরকারি নম্বরে একাধকিবার ফোন দিলেন তিনি রিসিভি করেন নাই এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।
পড়ুন- রোববার হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু, কোন এলাকা এবং কারা আগে পাবে?
দেখুন- দেশে তেলের কোনো সংকট নেই: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী


