বিজ্ঞাপন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ সাথে জড়িত ছিল: রফিকুল ইসলাম

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ ও কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা নির্বাচন কারচুপির সাথে জড়িত ছিল। একইসঙ্গে তিনি বর্তমান সরকারের অনেক উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। শনিবার বিকেলে শহরের ধানমন্ডি এলাকায় পৌর  কমিউনিটি সেন্টারে জেলা জামায়াতের আয়োজনে ইউনিট সভাপতি সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে রফিকুল ইসলাম বলেন, অনেক উপদেষ্টাই নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের অনেকেই দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছেন। আমরা তাদের এই ভূমিকাকে ধিক্কার ও নিন্দা জানাই।

বক্তব্যে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসানের একটি মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সারা দুনিয়ার লোকই জানে, উপদেষ্টা রেজওয়ানা হাসান বলেছেন- ‘আমরা জামায়াতকে ক্ষমতায় আসতে দিই নাই। অন্তত এতটুকু পেরেছি যে তাদেরকে বিরোধী দলে আসলেও মেইন স্ট্রিমে আসতে দিই নাই, মানে সরকার গঠন করতে দিই নাই’।

গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীদলের এই চীফ হুইপ বলেন, নির্বাচন কীভাবে হয়েছে তা দেশের জনগণ ও সাংবাদিকদের কাছে পুরোপুরি পরিষ্কার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টা প্রথম দিন থেকেই দলীয় সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতেই প্রমাণ হয় যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাথে জড়িত ছিল।

দেশের ‘গণভোট’ ও ‘সংস্কার’ ইস্যুতে সরকারকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান রফিকুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, দেশের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারি দলের মন্ত্রীরাও একসময় এই গণভোটের পক্ষে ভোট চেয়েছিলেন এবং প্রচারণা চালিয়েছিলেন বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। যারা এখন বলছেন ‘গণভোট বলে কিছু নাই’, তাদের সমালোচনা করে তিনি জাতির পক্ষ থেকে প্রশ্ন রাখেন, আপনারা গণভোট মানেন কি না? আপনারা সংস্কার মানেন কি না? জাতির সামনে আপনাদের বিষয়টি ক্লিয়ার করা উচিত।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের উদাহরণ টেনে রফিকুল ইসলাম সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক ঘটনাই আছে, যেখানে সরকার প্রথমে মানে না, কিন্তু এক পর্যায়ে মানতে বাধ্য হয়। বর্তমান সরকারও গণভোটের এই রায় বাস্তবায়নে একপর্যায়ে বাধ্য হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জেলা জামায়াতের আমীর ও জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান সাঈদের সভাপতিত্ব আরো বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া, সহকারী সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম সবুজ, পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, শহর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মওলানা সাইদুল ইসলামসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দরা।

অনুষ্ঠানে জেলার ৩২ ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ২৫ ইউনিয়ন পরিষদের জামায়াতে ইসলামী চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করে ঘোষণা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : জয়পুরহাট হাসপাতাল ৫০০ শয্যায় উন্নীত ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন