ময়মনসিংহের ত্রিশালে আদালতের ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখল ও ঘর ভাঙচুর করেছে সন্ত্রাসী বাহিনী। উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নে আদালতের ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে জমি দখল ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে সন্ত্রাসী সেলিম বাহিনী রং উপর।
উপজেলার ধলা এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় নারীসহ অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, বালিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিপাড়া ( ধলা) এলাকার মোহাম্মদ আব্দুল ছামাত মিয়া ১১০৮০ নং রেজিস্ট্রিকৃত হেবার ঘোষণাপত্র দলিল মূলে এক কাঠা জমির মালিক হন। একসময়ের পুকুর থাকা জমিটি ছামাত মিয়া মাটি ভরাট করে বসবাসের উপযোগী করেন এবং সেখানে ঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করে আসছিলেন। জমির নামজারি ও হাল সনের খাজনা পরিশোধ করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এটি ভোগদখল করে আসছেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেশী সন্ত্রাসী সেলিম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি দখলের জন্য পাঁয়তারা করে আসছিলেন। এর বিরোধের জেরে আব্দুল ছামাত মিয়া গত ১ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ বিচারক আসাদুজ্জামান ওই জমিতে ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদালত ত্রিশাল সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দখল অক্ষুণ্ণ রাখা এবং ত্রিশাল থানার ওসিকে শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেন।
তবে আদালতের তোয়াক্কা না করে গত ১৯ মার্চ জমি দখলের চেষ্টা চালায় সেলিম মিয়ার পক্ষ। এরপর গত ৩১ মার্চ পুনরায় হামলা চালিয়ে বাদীর চৌচালা ঘর ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের আহত করা হয়। সর্বশেষ গত সোমবার ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে জমিটি জোরপূর্বক দখলে নেয় সন্সেত্রাসী সেলিম মিয়া।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার ছামাত মিয়ার স্বজনরা জমিতে পরিচর্যা করতে গেলে সেলিম মিয়ার নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীদের পিটুনিতে ওমর আলী (৮০), আব্দুল মতিন, ফারজানা, রোকিয়া ও রাব্বী মারাত্মকভাবে আহত হন। হামলার একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা ছামাত মিয়ার বসতঘরটি গুঁড়িয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে (৮০) বছর বয়সী বৃদ্ধ ওমর আলী বলেন,আমার ছেলে পুকুর ভরাট করে ঘর তুলেছিল এবং ফসল বুনেছিল। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সেলিম মিয়ার সন্ত্রাসীরা আমাদের ঘর ভেঙে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।টাকার জোরে বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পড়ুন : দিনাজপুরে দীপশিখা বাস্তবায়িত বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস পালিত


