এক মাসের ব্যবধানে সোনালী মুরগির দাম ৮০ টাকা বেড়ে ৪৩০ টাকা আর ব্রয়লার মুরগি এক দিনের ব্যবধানে ২০ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যেখানে ঈদের আগে সোনালি মুরগি বিক্রি হতো ৩৪০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা এবং ব্রয়লার ১৭০ টাকায়।
আজ (শুক্রবার) রাজধানীর রামপুরা, আফতাবনগর, মহাখালী কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।
রামপুরা বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী আবদুল জলিল বলেন, আমাদেরই বেশি দামে মুরগি কিনে আনতে হচ্ছে। আমরা প্রতিদিন যে দরে মুরগি কিনে নিয়ে আসি, সেই ভাবেই আমরা বিক্রি করি। আমাদের বেশি দামে মুরগি বিক্রি করার সুযোগও নেই। গতকালের চেয়ে আজ ব্রয়লার মুরগি আমাদেরই ১৫ টাকা বেশি দরে কিনতে হয়েছে। আর সোনালি মুরগির দাম ঈদের পর থেকেই টানা বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে। পাইকাররা বলছে, খামারিদের নাকি মুরগি উৎপাদন কমে গেছে আর পরিবহন খরচ মিলিয়ে দাম বেড়েছে মুরগির বাজারে।
পশ্চিম রামপুরার বাসিন্দা আসমা বেগম বলেন, রমজানেও আমরা সোনালি মুরগি ৩৪০ টাকা কেজিতে কিনেছি। কিন্তু ঈদের পরেই দাম বেড়েই চলছে। আজ কিনলাম ৪৩০ টাকায়। বাজারে সবজি থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি জিনিসের দাম বেড়েই চলছে।
এদিন মুরগির পাশাপাশি মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি লক্ষ্য করা যায়। ২২০ টাকার নিচে বাজারে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল পাঙ্গাশ মাছ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও আজ ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে তা বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়। ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায়, যা গত তিন দিন আগেও বিক্রি হতো ২৮০ টাকা দরে। আর দুই কেজির চেয়ে বেশি ওজনের রুই মাছ ৩০ থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে তা বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায়। এ ছাড়া তেলাপিয়া, পাবদা, শোল, টেংড়াসহ সব মাছই কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে আজ বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রত্যেক মাছেই কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া মাছের আমদানিও কমে গেছে।
পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ইলিশের দাম নাগালের বাইরে। আজ ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ইলিশ ২৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৮০০ টাকায়। এক কেজি ওজনের মাছ ৩০০০ থেকে ৩২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মধ্য বাড্ডার বাসিন্দা সোহেল আহমেদ বলেন, ৫৫০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ মাছের দাম রাখল ১৩৮০ টাকা। বৈশাখকে ঘিরে ইলিশের দাম একটু বেশি থাকে, কিন্তু এবার যে দাম, তা আমাদের মতো ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। সরকারের উচিত বৈশাখকে ঘিরে ইলিশের দাম বাজার মনিটরিংয়ের মধ্যে নিয়ে আসা, যেন কোনো অসাধু ব্যবসায়ী জনগণকে জিম্মি করে অতিরিক্ত দাম রাখতে না পারে।
মহাখালী কাঁচাবাজারের ইলিশ মাছ বিক্রেতা শামীম হোসেন বলেন, এ বছর ইলিশের আমদানি খুবই কম। আমাদেরই বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। তাই চাইলেও কম দামে আমরা মাছ বিক্রি করতে পারি না। যদি জেলেদের জালে বেশি পরিমাণে মাছ ধরা পড়ত, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ইলিশের দাম কম থাকত।
পড়ুন- বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীতকরণের কাজ শুরু হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
দেখুন- নতি স্বীকার করলেন ট্রাম্প?


