বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনায় ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের মানববন্ধনে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর মতো রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকেও দ্রুত জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন নেত্রকোনার মাদ্রাসা শিক্ষকরা। এ দাবিতে তারা জেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে নেত্রকোনা শহরের কুড়পাড় এলাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট’, নেত্রকোনা জেলা কমিটি। ঘণ্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচিতে জেলার ১০টি উপজেলার বিভিন্ন ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন।

আয়োজক সংগঠনের জেলা সভাপতি মো. শামসুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হকের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল হান্নান, অর্থ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, পূর্বধলা উপজেলা কমিটির সভাপতি আবদুল হালিম, কেন্দুয়া উপজেলা কমিটির সভাপতি নাজমুল হক প্রমুখ।

মানববন্ধনে শিক্ষক নেতারা তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রসারের লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার প্রাথমিক স্তর অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৮৪ সালে প্রায় ১৮ হাজার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে এসব মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য নামমাত্র ভাতা চালু হয় এবং ২০০১ সালে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে সরকার।

শিক্ষকদের মূল ক্ষোভের জায়গাটি হলো- ২০১৩ সালে সরকার দেশের ২৬ হাজারের বেশি রেজিস্ট্রেশনকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয় একযোগে জাতীয়করণ করলেও, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকেও জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্ত করা হয়নি।

সভাপতির বক্তব্যে মো. শামছুল আলম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি স্বীকৃতি থাকলেও আমাদের কোনো বেতন-ভাতা নেই, চাকরির নূন্যতম নিশ্চয়তা নেই। এতে শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে যোগ্য শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।”

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল হান্নান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছিল। আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। দ্রুত আমাদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামীতে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।”

মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে শিক্ষক নেতারা নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর তাদের দাবি-দাওয়া সংবলিত স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।

পড়ুন- ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’ রাব্বি গ্রেপ্তার

দেখুন- বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন