টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড পাওয়া কবির হোসেন কৃষক প্রকৃত নয় বলে ভাইরাল হয়েছেন। তার কিছু ছবি প্রচার করে তাকে বিত্তশালী এবং কৃষক নন বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার এআই কিছু ছবিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার তৈরি হয়। তবে প্রকৃতপক্ষে কবির হোসেন একজন কৃষক। কবির হোসেন পৈত্রিক জমি ছাড়াও অন্য জনের জমিতে বর্গা চাষ করে থাকেন। স্থানীয়রা বলেছেন, তিনি প্রকৃত কৃষক। বিভাগ বলছে যথাযথ প্রক্রিয়ায় কার্ড দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, মৃত আবু সাইদ মিয়ার ছেলে কবির হোসেনের পৈত্রিক জমি রয়েছে ১৩ শতাংশ। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করে আসছেন। তবে কৃষিকাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কন্টেন্ট তৈরি করে আয় করেন। মঙ্গলবার দুপুর টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে কৃষক কার্ড বিতরণ ও প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী কবির হোসেনসহ ১৫ জন কৃষককে নিজ হাতে কার্ড তুলেন। একই সাথে কৃষক হিসেবে কবির হোসেন সেখানে বক্তব্য রাখেন। এর পরেই কবির হোসনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যকে প্রকৃত কৃষক নয় এমন বেশ কয়েকটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া ২০২৫ সালে তিনি এআই দিয়ে তৈরি করা কিছু ছবি নিজের টাইমলাইনে পোস্ট করেন। সেই ছবিগুলো হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে। আর সেসব ছবি পোস্ট করেই তার বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়। এছাড়া বুধবার আলোচিত সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক পিনাকী ভট্টাচার্যও তাদের নিজস্ব ফেসবুকে কবির হোসের সর্ম্পকে পোস্ট করে। তা মহুতেই মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায় কবির হোসেন মূলত প্রকৃত কৃষক। ধান চাষের পাশাপাশি তিনি গরুও লালন পালন করে থাকেন। তিনি এলাকায় একজন ক্ষুদ্র কৃষক হিসেবেই পরিচিত।
এদিকে বুধবার বিকেলে ও সন্ধ্যায় কবিরের বাড়িতে কৃষি সম্প্রসাধারণ অধিপ্তরের মহাপরিচালকসহ প্রশাসনের উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন।
সরিজমিনে দেখা যায়, কবির হোসেন একটি টিনের ঘরে থাকেন। তিন বাড়ির সামনেই সবজি আবাদ করেছেন। এছাড়া বাড়ির পিছনে তিন গরু লালন পালন করছেন। একই সাথে তিনি হাস মুরগীরও পালন পালন করছেন। সাধারণ কৃষককের মতোই তিনি জীবন যাপন করে থাকেন।
স্থানীয়রা জানায়, মৃত পিতার পাশাপাশি কবির হোসেন একজন প্রকৃত কৃষক। তাদের টিনের ঘর রয়েছে। কবির কৃষিকাজ করলেও তিনি নিয়মিত কন্টেন্ট তৈরি করেন। যার কারণে তিনি সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যমে সরব রয়েছেন। তিনি নিজের জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করে থাকেন। তিনি কৃষি কার্ড পাওয়ার যোগ্য। তাকে নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।
কৃষক কবির হোসেন বলেন, আমি একজন কৃষক। বাবার দেয়া আমার ১৩ শতাংশ জমি রয়েছে। এছাড়া আমি অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করি। কৃষিকাজের পাশাপাশি কন্টেন্ট বানিয়ে কিছু অতিরিক্ত আয় করি। আমার নিজের কিছু ছবি এআই দিয়ে বানিয়ে ফেসবুকে দেয়েছিলাম। বর্তমানে তা নিয়ে অনেকেই অপ্রচার করছে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। তিনি সবাইকে বাড়িতে আসার দাবি জানান।
তিনি আরো বলেন, একজন কৃষকের কি ভালো মানের পোশাক পড়া অপারাধ। আমার কোন দলীয় পদ নেই।
এ ব্যাপারে ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার সৈয়দ কবিরুজ্জামান ডল বলেন, কবির হোসেন প্রকৃত কৃষক। তিনি দীর্ঘদিন করে অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করেন। এছাড়া তিনি গরু লালন পালন ও সবজি আবাদ করে। যারা কবীরের নামে ছড়ানো তথ্য সম্পূন্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এ প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করার জন্য আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখেছি। তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন কৃষক। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক হয়। তিনি প্রান্তিক পর্যায়ের একজন কৃষক।
পড়ুন:জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় বাংলাদেশের
দেখুন:আগুনে যেসব ক্ষতি হলো পিজি হাসপাতালের |
ইমি/


