অভাবের সংসারে সচ্ছলতার স্বপ্ন দেখার আগেই তছনছ হয়ে গেছে দিনমজুর মোঃ সায়ামউদ্দিনের পরিবার। স্বামী ও একমাত্র পুত্রসন্তানকে হারিয়ে এখন দুই মেয়েকে নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন পারভীন বেগম।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ১১নং দানাপাটুলী ইউনিয়নের দানাপাটুলী গ্রামে এই হৃদয় বিঘ্ন ঘটনা ঘটে।
বিয়ের ১২ বছর পর অনেক মানত আর প্রার্থনার পর সায়ামউদ্দিন ও পারভীন দম্পতির ঘর আলো করে এসেছিল একটি পুত্রসন্তান। এরপর একে একে জন্ম নেয় দুই মেয়ে। অন্যের জমিতে কামলা খেটে কোনোমতে সংসার চালাতেন সায়ামউদ্দিন। কিন্তু বিধাতা যেন তাদের সুখ সহ্য করতে পারলেন না।
কিছুদিন আগে আকস্মিক এক দুর্ঘটনায় পানিতে ডুবে মারা যান পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি সায়ামউদ্দিন। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই নেমে আসে আরও বড় আঘাত—বাবার মৃত্যুর পরপরই মারা যায় তাদের সেই আদরের একমাত্র ছেলেটি।
পরিবারের প্রধান দুই পুরুষ সদস্যকে হারিয়ে এখন অথৈ সাগরে ভাসছেন পারভীন বেগম। দিনমজুর স্বামীর রেখে যাওয়া শূন্য ভিটায় এখন শুধুই হাহাকার।
“মানুষ খাবার দিলে পেটে দানাপানি জোটে, না দিলে সারাদিন না খেয়েই থাকতে হয়। নিজের কথা ভাবি না, কিন্তু ছোট দুইটা মেয়ের মুখের দিকে তাকালে বুক ফেটে যায়।”অনাহারে কাটছে দিন, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
চরম দারিদ্র্যের মাঝেও পারভীন বেগমের দুই মেয়ে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়। কিন্তু যেখানে দুবেলা দুমুঠো ভাতের নিশ্চয়তা নেই, সেখানে বই-খাতা আর স্কুলের খরচ মেটানো পারভীন বেগমের জন্য আকাশকুসুম কল্পনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভাবের তাড়নায় তাদের স্বপ্নগুলো অঙ্কুরেই বিনষ্ট হওয়ার পথে।
বর্তমানে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করা এই পরিবারটি এখন তাকিয়ে আছে সমাজের বিত্তবান এবং সরকারের সাহায্যের দিকে। পারভীন বেগম অশ্রুভেজা চোখে সরকার ও প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন তার এতিম দুই মেয়ের ভবিষ্যৎ রক্ষা এবং বেঁচে থাকার জন্য একটি স্থায়ী সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়।
একটি পরিবার ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে আপনার সামান্য সহযোগিতাও হতে পারে অনেক বড় অবলম্বন। আসুন, কিশোরগঞ্জের এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াই।
পড়ুন:২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী
দেখুন:আগুনে যেসব ক্ষতি হলো পিজি হাসপাতালের |
ইমি/


