দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের বহুদিনের প্রত্যাশিত চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক অবশেষে চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ বাস্তবতার পথে এগোচ্ছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগপথকে আধুনিক ও নিরাপদ করতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে একটি বৃহৎ প্রকল্প।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রথম ধাপে ১৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের ২৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করা হবে। এর মধ্যে ২ দশমিক ৬ কিলোমিটার ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটি পিপিপি পদ্ধতিতে অনুমোদন পেয়েছে। পাশাপাশি আরও ৪৮ কিলোমিটার সড়কের সম্ভাব্যতা সমীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, মহাসড়কটিকে আধুনিক ডিজাইন ও আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে নেওয়া হবে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা। দ্রুতগতির ও ভারী যানবাহনের জন্য আলাদা সুবিধা রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। পুরো প্রকল্প ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ প্রায় ১৪৮ কিলোমিটার এই মহাসড়কটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হলেও এর বর্তমান অবস্থা নাজুক। অধিকাংশ অংশ এখনও দুই লেনের সরু পথে সীমাবদ্ধ। সামান্য চাপেই সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। ওভারটেকিং করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটে মুখোমুখি সংঘর্ষ। বাঁক, বাজার ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত গতির কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। বিশেষ করে ছুটির দিন ও পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারমুখী যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
উল্লেখ্য, ২০১৩-১৫ সালে একটি সুইডিশ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রথম এ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার সম্ভাব্যতা যাচাই করে। তখন প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। এরপর একাধিকবার সমীক্ষা হলেও দীর্ঘদিন দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
তবে নতুন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।
পড়ুন: সংসদীয় রীতিনীতি পালনে জামায়াত অত্যন্ত সুশৃঙ্খল: স্পিকার
আর/


