প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ফ্লাইট কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। গতকাল শুক্রবার হজ ক্যাম্পে ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় শেষে তিনি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ থেকে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট গতকাল রাত ১২টা ২০ মিনিটে যাত্রা করে। ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি সৌদি আরবের জেদ্দার বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
ফ্লাইট উদ্বোধনের আগে আশকোনা হজ ক্যাম্প পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী হাজযাত্রীদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং তাদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। সরকার হজ ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত ও যাত্রীবান্ধব করতে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে হজ ক্যাম্প উদ্বোধন করেন। সেখানে তিনি হজযাত্রীদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী হজের প্রথম ফ্লাইট অর্থাৎ বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে ওঠেন এবং যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দোয়া করেন যাতে তারা নির্বিঘ্নে সৌদি আরবে পৌঁছান। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করলেন।
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর জন্য দোয়া করতে হজযাত্রীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হজের সময় যেসব সমস্যা হয় তা নিরসনে সরকার কাজ করছে। আগামীতে এই ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ। এ ছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ, বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রথমে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে আশকোনা হজ ক্যাম্পে যান। সেখানে একটি মেডিকেল ক্যাম্পেরও উদ্বোধন করেন তিনি। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হজযাত্রীদের জন্য শুভেচ্ছা উপহার দিয়েছেন। উপহারসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে এক লাখ বোতল পানি। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উদ্বোধনী ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য ব্যাকপ্যাক, ইহরাম সাবান, পানির পট, পেট্রোলিয়াম জেলি, মিসওয়াক ও আজওয়া খেজুর দেওয়া হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্ধিত ফ্লাইট শিডিউল ও বিমান ভাড়া কমানোসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরই হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে এ বছর প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন। তাদের মধ্যে চার হাজার ৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে হজ পালন করবেন। মোট হজযাত্রীর প্রায় ৫০ শতাংশ বহন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বাকি হজযাত্রীদের বহন করবে সাউদিয়া এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স।
প্রথম দিনে মোট ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনার কথা। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ছয়টি, সাউদিয়ার তিনটি এবং ফ্লাইনাসের তিনটি ফ্লাইট থাকবে। আগামী ২১ মে হজ-পূর্ব ফ্লাইট শেষ হবে। এ বছর মোট ২০৭টি হজ-পূর্ব ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০২টি, সাউদিয়া ৭৫টি এবং ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত।
পড়ুন:সরকারের ২ মাস পূর্তিতে সংবাদ সম্মেলন আজ
দেখুন:মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইরান নিয়ে ভয়ংকর তথ্য, আন্তর্জাতিক সব খবর! |
ইমি/


