মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণের টাকা দেওয়ার পরও এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র (এডমিট কার্ড) না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে তাদের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে গেলে জানতে পারে, তাদের এডমিট কার্ড আসেনি। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। নির্বাচনী পরীক্ষায় একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষক সোহেল মোড়ল তাদের ফরম পূরণের সুযোগ দেন। এ সময় নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাদের।
শিক্ষার্থীদের দাবি, অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার পরও তারা এখনো প্রবেশপত্র পায়নি। অভিযোগ রয়েছে, ২০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফরম ফিলাপের নামে প্রায় লক্ষাধিক টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক সোহেল মোড়ল ও তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা নূরে আলমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগীরা।
এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সেতু, আবৃত্তি, আনিয়া, স্বর্না লিয়নসহ বেশ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, আমরা অকৃতিকার্য হয়েছি। আমাদের নিতে পারবে না তার আগেই বলতো তারা আমাদের কৃতি কার্য দেখিয়ে ফরম ফিলাপের নামে আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে আমরা এডমিট কার্ড নিয়ে নিতে এসে জানি। আমাদের এডমিট কার্ড আসেনি। আমাদের এখন ভবিষ্যৎ কি হবে। এই সকল খারাপ বিচার চাই।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আইসা, লাবিবা, শান্তা,শামীম বলেন,আমরা শিক্ষক দ্বারা শিখব আর সেখানে তারা আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে এ প্রতারণার বিচার চাই। একটা বছর তারা আমাকে কেন ক্ষতি করল।
এদিকে একাধিক অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, তারা আমাদের শিক্ষা আমাদের ছেলে সন্তানের সাথে প্রতারণা করেছে। আমরা তাদের বিচার চাই। আমাদের ছেলে সন্তানের ভবিষ্যৎ তারা কি করবে সেটা জানি বলে দেয়
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক সোহেল মোড়লের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও এবং সরেজমিনে গিয়েও তার বাসায় পাওয়া যায়নি।
তবে এ বিষয়ে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা নূরে আলম আমি কিছু করিনি সব করেছে ছাড়ে তারে আমাকে যেভাবে করতে বলছে আমি সেভাবেই করেছি।
তবে এ বিষয়ে জানার জন্য মস্তাপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক বোরহান রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ ফরিদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বলেন,যদি কোন শিক্ষক শিক্ষার্থীর সাথে এরকম আচরণ করে থাকে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
পড়ুন:কিশোরগঞ্জে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি কাল থেকে শুরু হচ্ছে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি
দেখুন:সংকটে ওয়ান ব্যাংক, সমন্বয়ক বসাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক
ইমি/


